রবিবার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (বিএনএস) নির্বাচনী কমিশনের প্রধান ভবনের সামনে সমাবেশ করে, বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ঘেরাও চালায়। দলটি দাবি করে, বর্তমান কমিশন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদেশে কাজ করে, যা দেশের ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সমাবেশের অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র নেতারা একত্রিত হয়ে, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা এবং কমিশনের ওপর গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের বিরোধিতা জানায়। এই কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত ছিল এবং সকালবেলা নির্বাচনী ভবনের সামনে শুরু হয়।
বিএনএসের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সমাবেশে প্রধান বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আজ্ঞা মেনে কাজ করছে এবং তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র নির্বাচনকে বিকৃত করছে।
রাকিব শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাবিপ্রবি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র নির্বাচনে অনৈতিকভাবে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঐ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচনের তারিখ বারবার পরিবর্তন ও স্থগিত করা হয়েছে, যা গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের প্রমাণ বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনএসের দাবি অনুযায়ী, বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, যদিও তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক কাজ না থাকলেও তারা স্বাধীনভাবে ভবনে প্রবেশ করে সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে। রাকিব এই ধরনের অনিয়মকে ‘জবরদস্তিমূলক’ বলে বর্ণনা করেন।
শাবিপ্রবিতে পাঁচ দিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করা একটি বড় উদাহরণ হিসেবে রাকিব উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গোষ্ঠীর নিজস্ব ভিসি, প্রক্টর এবং ওএমআর মেশিনের সেটআপ ছাড়া নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
বিএনএসের মতে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল‑সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে দলটি ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। তবে, গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের ফলে এই অগ্রগতি থেমে যাবে এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করা হবে, এটাই তাদের উদ্বেগ।
সমাবেশের শেষে রাকিব উল্লেখ করেন, ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, যদি গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বন্ধ না হয়, তবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নির্বাচনী কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, অফিসিয়াল নোটিশে উল্লেখ আছে যে, কমিশন দেশের আইন অনুসারে কাজ করে এবং সকল নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিএনএসের দাবি অনুযায়ী, গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র নির্বাচন প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বচ্ছ ও ন্যায্য ভোটের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে।
বিশেষ গোষ্ঠীর সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ ও সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, নির্বাচনী কমিশনকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপে সতর্ক করা হবে বলে দলটি জোর দেয়। তারা দাবি করে, গোষ্ঠীর প্রভাব না থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচন স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত হতে পারে।
এই ঘেরাও কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন এক উত্তেজনা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের অভিযোগ যথাযথভাবে সমাধান না হয়, তবে তা জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিএনএসের নেতৃত্বের মতে, গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব রোধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তারা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।



