20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিব্যালট পেপার ও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগে ছাত্রদল ইসি ভবন ঘেরাও

ব্যালট পেপার ও কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগে ছাত্রদল ইসি ভবন ঘেরাও

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রোববার (১৮ জানুয়ারি) পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ভবনের সামনে সমাবেশ করে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে, কমিশনের স্বতন্ত্রতা ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

সমাবেশের মূল দাবি হল, ব্যালট পেপার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে। ছাত্রদল দাবি করে, এই হস্তক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করে এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ঘটার সম্ভাবনা তৈরি করে।

সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবের অধীনে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র নির্বাচনগুলোতে নির্দিষ্ট সংগঠনের পক্ষে তারিখ পরিবর্তন ও নির্বাচন স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিয়মিতভাবে কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, যদিও তাদের কোনো সরকারি দায়িত্ব না থাকলেও, সচিবালয় ও কমিশনের ভেতরে অবাধে চলাচল করে প্রভাব বিস্তার করে। এই ধরনের অনিয়মের ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনের জন্য গৃহীত বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে রাকিবুলের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, জামাতপন্থী উপাচার্য, প্রক্টর এবং নিজস্ব ওএমআর মেশিনের উপস্থিতি ছাড়া কোনো নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি শাবিপ্রবিতে টানা পাঁচ দিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করার উদাহরণ দিয়ে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

ছাত্রদল দাবি করে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে তাদের সংগঠন ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। তবে, এই অগ্রগতি বাধা দিতে এবং জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

আজকের ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাকিবুল রাকিব উল্লেখ করেন, যদি জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ও বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য তিনটি মূল বিষয় তুলে ধরেছেন: প্রথমত, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কমিশনের সিদ্ধান্তে পক্ষপাত; দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর অনিয়মিত হস্তক্ষেপ; তৃতীয়ত, নির্বাচনী সময়সূচি ও পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার অভাব।

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, পূর্বে কমিশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে, যা এই দাবিগুলোর প্রেক্ষাপটে পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি ছাত্রদলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, জাতীয় নির্বাচনের সময় ভোটারদের আস্থা হ্রাস পেতে পারে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।

অন্যদিকে, ছাত্রদলের সমর্থকরা দাবি করেন, এই ধরনের ঘেরাও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি বৈধ উপায়। তারা উল্লেখ করেন, জনমত গঠন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা ভবিষ্যতে আরও সমাবেশের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যদি কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন না আসে। তারা জোর দিয়ে বলছেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments