28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইন্দোনেশিয়ার নজরদারি বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, উদ্ধার কাজ চালু

ইন্দোনেশিয়ার নজরদারি বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, উদ্ধার কাজ চালু

শুক্রবার বিকাল ১টা ৩০ মিনিটে ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের একটি নজরদারি বিমান হঠাৎ এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে সংযোগ হারায়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুহূর্তে বিমানটি দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের মারোস অঞ্চলের কুয়াশাচ্ছন্ন পর্বতমালার কাছাকাছি ছিল।

বিমানটি ইন্দোনেশিয়া সমুদ্র ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের ভাড়া করা, সামুদ্রিক মাছ ধরা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা একটি টার্বোপ্রপ যন্ত্রপাতি। এতে আটজন ক্রু সদস্য এবং তিনজন মন্ত্রণালয়ের কর্মী যাত্রী হিসেবে চড়ে ছিলেন, মোট একুশজনেরও বেশি মানুষ না।

বিমানটি যোগিয়াকার্তা থেকে রওনা হয়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের দিকে উড়ছিল। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে অনুসন্ধান দলগুলোকে বিমানটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারণে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়।

দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনওয়ার জানান, ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার পর ১,২০০ জন কর্মী নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালু করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, “বিচ্ছিন্ন যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধানই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কিছু বেঁচে থাকতে পারে, তাই দ্রুত তাদের উদ্ধার করা জরুরি।”

রবিবার সকালে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল মারোসের বুলুসারাং পর্বতের আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ সনাক্ত করে। এই পর্বতটি জাকার্তা থেকে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত, যা অঞ্চলের কঠিন ভূগোলিক বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।

হেলিকপ্টার ক্রু ৭টা ৪৬ মিনিটে বিমানটির জানালার টুকরো দেখেন, আর ৭টা ৪৯ মিনিটে প্রধান কাঠামোর একটি বড় অংশের দৃশ্য পাওয়া যায়। পরবর্তীতে পর্বতের ঢালে বিমানটির লেজের অংশও শনাক্ত করা হয়। এসব অংশের অবস্থান অনুসারে ধ্বংসাবশেষের বিস্তার নির্ধারণে সহায়তা মিলেছে।

তীব্র কুয়াশা এবং পার্বত্য এলাকার কঠিন প্রবেশযোগ্যতা অনুসন্ধান কাজকে ধীর করে তুলেছে। উদ্ধারকারী দলগুলোকে বিশেষ সরঞ্জাম ও স্থানীয় গাইডের সহায়তা নিতে হচ্ছে, যাতে নিরাপদে ধ্বংসাবশেষের কাছাকাছি পৌঁছানো যায়।

বিমানটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনো স্পষ্ট নয়; তাই সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, একাধিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি, মানবিক ভুল বা আবহাওয়ার প্রভাব একসঙ্গে ঘটলে বিমান দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিমানটি ফরাসি-ইতালীয় নির্মাতা এ.টি.আর. এর ATR 42-500 মডেল, যা ৪২ থেকে ৫০ জন যাত্রী বহন করতে সক্ষম। ফ্লাইটরেডার২৪ এর তথ্য অনুযায়ী, এই মডেলের গতিবিধি ও রুটের সঙ্গে বর্তমান ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিলে যায়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং ASEAN সদস্য দেশগুলোও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তুলতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “এ ধরনের ঘটনার পর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর দ্রুত মানবিক সহায়তা ও তথ্য শেয়ারিং অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তি বাড়ায়।” ইন্দোনেশিয়ার সরকারও প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্ধারকর্মে সহযোগিতা চেয়ে আহ্বান জানিয়েছে।

পরবর্তী কয়েক দিন থেকে ধ্বংসাবশেষের বিশদ বিশ্লেষণ, বেঁচে থাকা যাত্রীদের শনাক্তকরণ এবং দুর্ঘটনার মূল কারণ নির্ধারণের জন্য টেকনিক্যাল টিম কাজ শুরু করবে। তদন্তের ফলাফল আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments