নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় শনিবার রাত প্রায় দশটায় একাধিক মামলার আসামি মিজানুর রহমান রনি, ৩৫ বছর বয়সী, লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মারধরে নিহত হন। ঘটনাস্থল নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজারের সংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে, যেখানে রনি তার দুই সন্তানসহ বাস করতেন।
মিজানুরের দেহ রোববার সকালে স্থানীয় পুলিশ দল দ্বারা উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়। মৃতদেহের সঙ্গে একটি খেলনা পিস্তল এবং টিপ ছুরি পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, রনি পূর্বে চুরি, ডাকাতি সহ অন্তত ছয়টি অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় আঘাত করে গুরুতরভাবে আহত করেন। আহত অবস্থায় রনি ঘটনাস্থলেই মারা যান; পরে তার দেহ রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়।
কবিরহাট থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা লাঠি ও লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মৃতদেহের পকেটে একটি খেলনা পিস্তল এবং টিপ ছুরি পাওয়া গিয়েছে, যা সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, রনি যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ছিলেন সেগুলোর মধ্যে চুরি ও ডাকাতি প্রধান। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো এখনও আদালতে চলমান, তবে এই হিংসাত্মক হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভূঁঞা ওসি উল্লেখ করেন, “মৃতদেহ থেকে প্রাপ্ত সব প্রমাণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং তদন্তে সহায়তা করবে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হবে।” তিনি আরও জানান, রনির পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে তা দ্রুত তদন্তের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনার পর নোয়াখালী পুলিশ বিভাগ স্থানীয় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এছাড়া, মামলায় জড়িত সকল সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার চালু করা হবে এবং প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।
অপরাধের শিকার পরিবারকে সহানুভূতি জানিয়ে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে, সচেতনতা ও নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।



