22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকরাচি গুল প্লাজা শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যু, বিশজন আহত

করাচি গুল প্লাজা শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যু, বিশজন আহত

করাচি, পাকিস্তান – জিন্নাহ রোডের গুল প্লাজা শপিং মলে শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের প্রাণ চলে গেছে এবং বিশজনের ওপর আঘাত লেগেছে। ঘটনাস্থলে আগুনের ধোঁয়া রাতের অন্ধকারে শহরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে জরুরি সেবা দল দ্রুতই ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, আগুনের সূত্রপাতের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে প্রাথমিক তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের বিস্তারকে বাড়িয়ে তুলতে শপিং মলের পুরনো কাঠামো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

মালিকানাধীন শপিং মলে প্রায় এক হাজার দুইশোটি দোকান রয়েছে, যা ছোট-বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করে। আগুনের তীব্রতা এবং ভবনের পুরনো কাঠামোর কারণে শীঘ্রই কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, ফলে ভবনের ধ্বংসের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকাল পর্যন্ত আগুনের প্রায় ত্রিশ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন, তবে সম্পূর্ণ নিভে যাওয়া এখনো বাকি।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের দেহ সরাসরি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় এবং করাচি সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি দুইজনের মৃতদেহও উদ্ধারকাজের সময়ই শনাক্ত করা হয়েছে। মৃতদেহের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি চিকিৎসা সেবা এবং পুনর্বাসন ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শপিং মলের ভেতরে কাজ করছিলেন বা দোকানের গ্রাহক ছিলেন। আহতদের অবস্থা তীব্র থেকে মাঝারি পর্যন্ত বিভিন্ন রকম, এবং তারা তৎক্ষণাৎ করাচি সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা দল দ্রুতই আঘাতের তীব্রতা অনুযায়ী সেবা প্রদান করছে এবং প্রয়োজনীয় শল্যচিকিৎসা চালু হয়েছে। আহতদের সংখ্যা বাড়ার ফলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তবে চিকিৎসা কর্মীরা পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে করাচি ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মৃতের সংখ্যা পাঁচ পর্যন্ত বাড়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভবনের কাঠামো পুরনো হওয়ায় ভবিষ্যতে ধ্বংসের ঝুঁকি রয়েছে এবং সুতরাং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্বরিত পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কর্মকর্তা জানান, শপিং মলের ভিতরে এবং আশেপাশে ফায়ারফাইটার দল রাতভর কাজ করে আসছে এবং আগুনের বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা উল্লেখ করেন, শপিং মলের পুরনো কাঠামো এবং সঙ্কীর্ণ গলি-দ্বার আগুনের দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ। ফায়ারফাইটাররা ভবনের সাপোর্ট স্ট্রাকচার পরীক্ষা করে দেখছেন যাতে কোনো সময় কাঠামো ধসে না পড়ে।

অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং শহরের নগর পরিকল্পনা বিভাগ একত্রে একটি তদন্ত দল গঠন করেছে। দলটি অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ, নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন এবং ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা বিশ্লেষণ করবে। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, শপিং মলের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি বেরিয়ে আসার পথ যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শপিং মলের মালিকানাধীন কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে শপিং মলের নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং অনুপযুক্ত কাঠামোযুক্ত ভবনগুলোকে বন্ধ করা হতে পারে।

শপিং মলের মালিক ও পরিচালনাকারী সংস্থা ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে, মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে। তারা উল্লেখ করেছে, ভবনের পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা না ঘটে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে করাচি শহরে শপিং মলের নিরাপত্তা ও অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নাগরিক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এখন নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগ এবং পুরনো ভবনের পুনর্নির্মাণের দাবি জানাচ্ছে। সরকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা রোধ করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments