27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধউত্তরা নিরাপত্তাকর্মীকে হামলা, শটগান ছিনিয়ে নেওয়া ও অজ্ঞাত ব্যক্তির অপহরণ

উত্তরা নিরাপত্তাকর্মীকে হামলা, শটগান ছিনিয়ে নেওয়া ও অজ্ঞাত ব্যক্তির অপহরণ

গত শনিবার রাত ২০ টার দিকে ঢাকা‑উত্তরার একটি বাসাবাড়িতে নিরাপত্তা কর্মী মোহাম্মদ মাহবুব (৫৫) ওপর হিংসাত্মক আক্রমণ হয়। অপরিচিত আক্রমণকারীরা তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত শটগান ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে একজন অজানা ব্যক্তিকে অপহরণ করে। আহত কর্মীকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগ, কক্ষ ২০০‑এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় থাকায় কথা বলতে পারছেন না।

উত্তরা পশ্চিম থানা থেকে জানানো হয়েছে যে, হামলার সময় নিরাপত্তাকর্মীকে একাধিক আঘাত লেগেছে, ফলে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। শটগানটি আইনানুগভাবে তার নামের ওপর নিবন্ধিত ছিল, তবে এখনো তা পুনরুদ্ধার করা যায়নি। অপহৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনও অজানা, এবং তার পরিবার থেকে কোনো যোগাযোগ পাওয়া যায়নি। থানা প্রধান কাজী রফিক আহমেদ জানান, “অপরিচিত ব্যক্তি এখনো মিসিং, তার সম্পর্কে কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।”

মাহবুবের ছেলে ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি আক্রমণ, শটগান চুরি এবং অপহরণকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে থানা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি যে, মাহবুবের কাজের পরিধি কেবল নিরাপত্তা সেবা না হয়ে অপহৃত ব্যক্তির ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছিল কিনা।

হামলার পর পুলিশ দ্রুত অনুসন্ধান অভিযান চালু করে। বিভিন্ন পাড়া ও আশেপাশের এলাকায় দল গঠন করে গৃহবন্দি, গোপন গুদাম এবং সন্দেহজনক গাড়ি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, “অপারেশন ডেভিল হান্ট” নামে পরিচিত যৌথবাহিনীকে এই শটগান পুনরুদ্ধার ও অপহৃত ব্যক্তির সন্ধানে যুক্ত করা হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্ত্র আইন ও দণ্ডবিধি অনুসারে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত শটগান চুরি এবং নিরাপত্তাকর্মীর ওপর হিংসা উভয়ই গুরুতর অপরাধ। সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী, অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হলে মামলাটি যথাযথ আদালতে হস্তান্তর করা হবে।

থানা প্রধানের মতে, এই ঘটনা এখনও রহস্যময়, কারণ অপহৃত ব্যক্তির পরিচয় ও তার পরিবারের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। “এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তাই তদন্তে অতিরিক্ত কঠোরতা বজায় রাখা হচ্ছে,” তিনি যোগ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া দিয়ে আহত মাহবুবকে স্থানীয় ক্লিনিকে নিয়ে যান এবং জরুরি সেবা কল করেন। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে, এবং বাসিন্দারা বাড়িতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে শুরু করেছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা একসাথে কাজ করে অপরাধীর চিহ্ন বের করার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে, সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক ও সমর্থন গোষ্ঠী চিহ্নিত করার দিকে মনোনিবেশ করেছে।

অভিযান চলাকালীন, কিছু এলাকায় অস্থায়ী রোডব্লক ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক গতি-প্রকৃতির গাড়ি থামিয়ে তদন্ত করা যায়। এছাড়া, শটগানের সিরিয়াল নম্বরের ভিত্তিতে অস্ত্রের বর্তমান অবস্থান নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণও চালু করা হয়েছে।

অধিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত, নিরাপত্তা কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন করা এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত কর্তৃপক্ষের জানানো গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে থানা থেকে সময়ে সময়ে আপডেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কর্মীদের সুরক্ষা বাড়াতে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লক্ষ্য দ্রুত শটগান পুনরুদ্ধার, অপহৃত ব্যক্তির মুক্তি এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করা।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments