20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিরোধে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা প্রশ্নে উত্তেজনা বৃদ্ধি

ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিরোধে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা প্রশ্নে উত্তেজনা বৃদ্ধি

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে দুর্বল করবে এবং পরিস্থিতির ঝুঁকি বাড়াবে বলে সতর্ক করেছেন। উভয় নেতাই ইউরোপের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ঐক্য ও সমন্বয় বজায় রাখার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ইইউয়ের শীর্ষ কূটনীতিক কায়া কাল্লাস শুল্কের প্রভাব নিয়ে আরও বিশদে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শুল্ক উভয় পাশে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ক্ষয় করবে এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার মূল কাজ থেকে ইউরোপের মনোযোগ সরিয়ে নেবে।

কাল্লাসের মতে, চীন ও রাশিয়া এই পরিস্থিতি ব্যবহার করে অতিরিক্ত সুবিধা অর্জন করবে, আর মিত্রদের মধ্যে বিভাজন তাদের জন্য লাভজনক হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুল্ক ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে তুলবে এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির ভিত্তি ক্ষয় করবে।

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়লে ন্যাটোইয়েই তা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে, এই বিষয়টি ইইউয়ের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন। শুল্কের ফলে উভয় মহাদেশের নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইইউয়ের ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা রোববার একটি জরুরি বৈঠকে একত্রিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া নির্ধারণের জন্য আলোচনা করবেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য শুল্কের প্রভাব মূল্যায়ন এবং সমন্বিত কৌশল গঠন করা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ট্রুথ সোশালে একটি পোস্টে জানিয়েছেন যে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, এই শুল্ক ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই হার বজায় থাকবে। তিনি বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিশাল খনিজ সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে এর সংযোগ উল্লেখ করেছেন।

ইইউ নেতাদের মতে, শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ট্রান্সআটলান্টিক সহযোগিতার ভিত্তি নষ্ট করার ঝুঁকি বহন করে। তারা জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুল্কের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং পারস্পরিক বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শুল্কের সম্ভাব্য প্রয়োগের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোতে পণ্যের দাম বাড়তে পারে, যা ভোক্তা ও শিল্প উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শিল্পে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, যা দু’পক্ষের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে।

ইইউয়ের জরুরি বৈঠকের ফলাফল কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে শুল্কের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়ছে। শুল্কের প্রয়োগে যদি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো পরিবর্তন আসে, তবে ন্যাটো ও ইইউ উভয়ই তা মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা নীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে, এবং ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গঠনেও প্রভাব ফেলবে। উভয় পক্ষের নেতারা এখনো সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে আগ্রহী, তবে শুল্কের বাস্তবায়ন ও তার পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments