20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদ্বৈত নাগরিকত্বের আবেদন শোনার শেষ দিন, রোববার EC চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে

দ্বৈত নাগরিকত্বের আবেদন শোনার শেষ দিন, রোববার EC চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে

রবিবার আপিল শোনার শেষ দিন, যেখানে দ্বৈত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে মনোনয়ন বাতিলের আবেদনগুলো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ের পর, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল শোনার সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তগুলো নির্বাচনের প্রার্থী তালিকাকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।

ইলেকশন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে অপেক্ষমাণ অধিকাংশ আবেদনই দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত। কমিশন রোববারের শোনার সময় এসব আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেবে বলে জানিয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে প্রার্থীর যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, এই রায়গুলো রাজনৈতিক গতি পরিবর্তন করতে পারে।

গত শনিবার ফেনী-৩ আসনের দুই প্রার্থীর—বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু ও হাসনাত আবদুল্লাহ—মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শোনারকালে তীব্র তর্ক হয়। উভয় প্রার্থীই নিজের যোগ্যতা রক্ষা করতে দৃঢ় অবস্থান নেন, ফলে শোনারকক্ষের পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই ঘটনা দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আপিলের জটিলতা প্রকাশ করে।

শুনারকালের অষ্টম দিনে ৪৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। এ পর্যন্ত আট দিনে মোট প্রায় ৪০০ প্রার্থী তাদের বাতিল হওয়া মনোনয়ন পুনরুদ্ধার করেছেন। এই সংখ্যার বৃদ্ধি দেখায় যে আপিল প্রক্রিয়া প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রিলিফের পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই দিনে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মো. আবুল হাসনাতের আবেদন পর্যালোচনার ফলে তার মনোনয়ন হারান। পরে মুন্সি তার মনোনয়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন দাখিল করেন, তবে কমিশন তা প্রত্যাখ্যান করে। এই রায় দু’পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

শুক্রবারের শোনায় মোট ১১২টি আপিল বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে ৪৫টি মঞ্জুর, ৩৭টি নামঞ্জুর, এবং ১৯টি আবেদন এখনও অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। নয়টি আবেদন প্রত্যাহারের ফলে উত্থাপিত হয়নি, আর দুইটি আপিলে আবেদনকারী অনুপস্থিত ছিলেন। মোট ৬৪৫টি আপিল কমিশনে দাখিল হয়েছে, যা প্রার্থীদের বিস্তৃত অংশগ্রহণকে নির্দেশ করে।

রবিবার সকাল ১০টায় আপিল শোনার শুরু হবে, এবং বিকেলে ১২টায় সব অপেক্ষমাণ আবেদন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে কমিশন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই সময়সূচি অনুসারে, শোনারকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া আবেদনগুলো দ্রুত প্রকাশের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

আজকের শোনার শেষে পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন জামালপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানা ফরিদ, গাজীপুর-২ আসনের জনতার দলের প্রার্থী মো. শরিকুল ইসলাম সীমান্ত, এবং খাগড়াছড়ি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও প্রাক্তন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরা। তাদের পুনরায় যোগ্যতা নিশ্চিত হওয়া নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন গতিবিধি যোগ করবে।

শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ একই অভিযোগ তুলে তার মনোনয়ন বাতিলের আবেদন দাখিল করেছিলেন। এই ধারাবাহিকতা নির্বাচনী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে।

লালমনিরহাট-২ আসনে সাতজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল রায় নিশ্চিত করা হয়েছে, যা তাদের মনোনয়ন বজায় রাখে। এই রায়গুলো স্থানীয় রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করবে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে তীব্র করবে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত রায়গুলো যদি কঠোর হয়, তবে বহু প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না, ফলে নির্বাচনী তালিকায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে, যদি অধিকাংশ আবেদন মঞ্জুর হয়, তবে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়বে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে।

ইলেকশন কমিশন রোববারের শোনার শেষে চূড়ান্ত রায় প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এবং রাজনৈতিক দলগুলো এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তাদের কৌশল নির্ধারণ করবে। নির্বাচনের আগে এই রায়গুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় আনতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments