ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা থেকে সিঙ্গাপুরে গৃহীত কমপক্ষে পনেরোটি নবজাতক শিশুর অপরাধগত নেটওয়ার্কের বিশদ প্রকাশিত হয়েছে। জাকার্তা থেকে চাংগি বিমানবন্দরে সরাসরি উড়ে যাওয়া শিশুরা, দম্পতি হিসেবে ভ্রমণকারী লোকজনের সঙ্গে একত্রে গৃহীত হয়। এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা গরিব পরিবারকে প্রতি শিশুর জন্য ২০ মিলিয়ন রুপিয়া (প্রায় ১,৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার) পর্যন্ত অর্থ প্রদান করে শিশুটি ছেড়ে দিতে প্রলুব্ধ করত।
সিঙ্গাপুরের ধনী গৃহীত অভিভাবকরা প্রতিটি শিশুর জন্য ২০,০০০ ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করে, যদিও ইন্দোনেশিয়ার আইন অনুযায়ী গৃহীত শিশুর জন্য কোনো অর্থ গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধী গোষ্ঠী আকর্ষণীয় চেহারার শিশুকে সিঙ্গাপুরে পাঠায়, আর বাকি শিশুরা দেশীয় বাজারে বিক্রি হয়।
গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে, এই নেটওয়ার্কের জন্য দম্পতি হিসেবে কাজ করা লোকজনকে নিয়োগ করা হয় এবং শিশুরা তাদের পরিবার কার্ড (কার্তু কেলুগারা)‑এ নকল জন্ম সনদসহ যুক্ত করা হয়। এই নকল নথি ব্যবহার করে পন্টিয়ানাকের ইমিগ্রেশন অফিস থেকে পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। পরিবার কার্ড ইন্দোনেশিয়ার সিভিল রেজিস্ট্রি অফিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি, যা পাসপোর্ট, বিদ্যালয় ভর্তি, বিবাহ নিবন্ধন এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয়।
প্রাথমিক অনুমান ছিল যে শিশুরা জোহর বারুয়োর সীমান্ত পার হয়ে ভূমি পথে সিঙ্গাপুরে পৌঁছায়। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, রুটটি জাকার্তা থেকে সরাসরি চাংগি পর্যন্ত বিমান পথে ছিল। শিশুরা ব্যান্ডং, সুকাবুমি এবং সিয়ানজুরের মতো পশ্চিম জাভার বিভিন্ন শহর থেকে জাকার্তায় নিয়ে আসা হয়, তারপর পন্টিয়ানাকের মাধ্যমে নথি প্রস্তুত করা হয় এবং শেষমেশ সরাসরি সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
শিশু ও নারী অধিকার কর্মী মারিয়া আদভিয়ান্তি উল্লেখ করেন, এই ধরণের অপরাধে জড়িত লোকজন প্রায়শই নিজেকে বাবা-মা হিসেবে উপস্থাপন করে এবং শিশুটিকে পারিবারিক ছুটির আড়ালে নিয়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে তারা ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে গোষ্ঠীভুক্ত করে একসাথে ভ্রমণ করে, এবং ট্যুর শেষ হলে গোপনে আলাদা হয়ে যায়।
পশ্চিম জাভা পুলিশ বিশেষ অপরাধ বিভাগ এখনো এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আদালতে মামলার শোনানির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, ইন্দোনেশিয়ার সিভিল রেজিস্ট্রি ও ইমিগ্রেশন বিভাগ নথি জালিয়াতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের গৃহীত নীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠী এই ধরনের শিশুর পাচার বন্ধের জন্য দু’দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কড়া শাস্তি ও নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা জরুরি।



