28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের আহ্বান: এরদোয়ান ও আল‑সিসি শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে পারেন

ট্রাম্পের আহ্বান: এরদোয়ান ও আল‑সিসি শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের তদারকি করার জন্য গঠিত “বোর্ড অব পিস”‑এ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল‑সিসিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি টার্গেট করা হয়েছে গাজার বর্তমান মানবিক সংকটের সমাধান ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য।

আঙ্কারা ও কায়রোর সংশ্লিষ্ট সরকারী দপ্তরগুলো এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং উল্লেখ করেছে যে উভয় নেতারাও এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছেন। এরদোয়ানের অফিসের মুখপাত্র গত শনিবার সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে তার প্রেসিডেন্ট এক দিন আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন। একই সময়ে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে আল‑সিসি ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আমন্ত্রণের বিষয়টি মিশরের সরকারী পর্যায়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা প্রথমবার প্রকাশিত হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে, যেখানে তিনি গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ওপর তদারকি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক তকনোক্র্যাটিক বডি গঠন করার কথা উল্লেখ করেন। অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই এই প্রস্তাবে সম্মতি জানায়, যা গাজার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি হয়। পরিকল্পনায় বলা হয়েছে যে “বোর্ড অব পিস” গাজার প্রশাসনিক ও মানবিক কার্যক্রমের তদারকি করবে, যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা পায়।

শুক্রবার হোয়াইট হাউস শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, মার্কিন ব্যবসায়ী মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল এবং জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্প নিজেই এই পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

গাজার বর্তমান অবস্থা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে উদ্বেগের কারণ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি আক্রমণে গাজায় হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুর মৃত্যু ঘটেছে এবং খাদ্য সংকট তীব্রতর হয়েছে। পুরো গাজা জনগণকে অভ্যন্তরীণভাবে স্থানচ্যুত করা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিটি এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডকে “গণহত্যা” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করে যে একই মাসে হামাসের আক্রমণে ১,২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে এবং ২৫০ এর বেশি মানুষ জিম্মি হয়েছেন।

ট্রাম্পের উদ্যোগের পেছনে গাজার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য রয়েছে। এরদোয়ান ও আল‑সিসির অংশগ্রহণ গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় তুর্কি ও মিশরীয় স্বার্থকে সমন্বিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে উভয় দেশের সরকার এখনও এই আমন্ত্রণের শর্তাবলী ও সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

শান্তি পর্ষদ গঠনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সদস্যদের প্রথম বৈঠক নির্ধারিত হবে, যেখানে গাজার মানবিক সহায়তা, পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে এই আন্তর্জাতিক বডি গাজার বর্তমান সংকটের সমাধানে কী ভূমিকা রাখবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।

গাজার পরিস্থিতি উন্নত না হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে কিছু বিশ্লেষক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে প্রশংসা করছেন, আবার অন্যরা এটিকে রাজনৈতিক স্বার্থের ছদ্মবেশে দেখছেন। ভবিষ্যতে এই পর্ষদ কীভাবে কাজ করবে এবং গাজার জনগণের জন্য কী ফলাফল নিয়ে আসবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments