লন্ডনের উচ্চ আদালতে সোমবার প্রিন্স হ্যারি ডেইলি মেইল প্রকাশকের মালিকানাধীন অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন। তিনি দাবি করছেন যে সংবাদপত্রগুলো অবৈধ পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই মামলা তার তৃতীয় বড় আইনি লড়াই, যেখানে স্যার এলটন জন, লিজ হার্লি এবং স্টিফেন লরেন্সের মা, ব্যারোনেস লরেন্সসহ অন্যান্য দায়ী পক্ষও যুক্ত আছেন।
প্রিন্স হ্যারি পূর্বে ২০২৩ সালে মিরর গ্রুপের বিরুদ্ধে সফলভাবে মামলা করেছিলেন, যা তার আত্মজীবনী “স্পেয়ার” প্রকাশের পর এবং নেটফ্লিক্সে তার ও মেহানের ডকুমেন্টারি প্রকাশের সঙ্গে সমান্তরালভাবে ঘটেছিল। সেই সময়ে তিনি একা সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন, কেবল তার আইনজীবী ও নিরাপত্তা দল তার পাশে ছিল।
এবারের মামলায় হ্যারি মিডিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের তীব্রতা বজায় রেখেছেন, তবে তিনি আর বিশ্বকে সমালোচনা করছেন না। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পরিবারিক সম্পর্ক মেরামতে মনোযোগ দিয়েছেন। মে মাসে তিনি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পরিবারিক বিরোধ শেষ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং বলেন, “আর লড়াই করা কোনো অর্থ বহন করে না, জীবন মূল্যবান।” সেপ্টেম্বর মাসে তিনি তার পিতা, রাজা চার্লসের সঙ্গে ১৯ মাসের পর প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ করেন, যা দুজনের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিক নির্দেশ করে।
ডেইলি মেইল প্রকাশকরা হ্যারির অভিযোগকে “অযৌক্তিক” বলে খারিজ করেছে এবং তাদের সাংবাদিকতার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য দৃঢ় প্রতিরক্ষা প্রস্তুত করেছে। তারা দাবি করে যে সব তথ্য আইনসঙ্গতভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং কোনো গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয়নি।
এই মামলায় হ্যারির পাশাপাশি সেলিব্রিটি ও মানবাধিকার কর্মীও যুক্ত, যা মিডিয়া গোপনীয়তা ও পাবলিক ব্যক্তিত্বের অধিকার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার সূচনা করবে। বিশেষ করে স্টিফেন লরেন্সের মা, যিনি ১৯৯৩ সালে হিংসাত্মক হত্যার শিকার হয়েছিলেন, তার মামলায় মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। তার উপস্থিতি মিডিয়ার দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করবে।
হ্যারির পূর্বের মামলায় তিনি মিডিয়া সংস্থার অবৈধ গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে জয়লাভ করেছিলেন, যা রাজপরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছিল। তবে এখন তিনি পরিবারিক সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়ার সংকেত দিচ্ছেন, যা তার পাবলিক ইমেজে নতুন দিক যোগ করবে।
মামলার ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, তবে আদালতে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর মিডিয়া নীতি ও গোপনীয়তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় বের হতে পারে। হ্যারির এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি মিডিয়ার অতীতের আক্রমণাত্মক কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করছেন, একই সঙ্গে পরিবারিক বন্ধন পুনর্নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন।
এই মামলায় আদালত কী রকম রায় দেবে তা দেশের ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে। হ্যারির এই আইনি লড়াই শুধুমাত্র তার নিজের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে সংবাদ সংস্থাগুলোর তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও নৈতিক মানদণ্ড নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রিন্স হ্যারি এবং অন্যান্য দায়ী পক্ষের এই আইনি পদক্ষেপ মিডিয়া ও পাবলিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যেখানে গোপনীয়তা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বের ভারসাম্য পুনর্নির্ধারিত হবে।



