22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানের বিক্ষোভে হাজার হাজার মৃত্যুর দায়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইরানের বিক্ষোভে হাজার হাজার মৃত্যুর দায়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি বৈঠকে, চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি দায়ী ঘোষণা করেন। বিক্ষোভ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তীব্রতা বজায় রেখেছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।

বিক্ষোভের সূচনা ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক দাবির সঙ্গে হয়েছিল; মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মৌলিক পণ্যের ঘাটতি নিয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদগুলো সরকারবিরোধী রূপ নেয় এবং শাসনের অবসানের দাবি করে তীব্রতর হয়।

খামেনি উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনে বিদেশি শক্তির সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই হস্তক্ষেপের মূল চালিকাশক্তি। তিনি বলেন, এই দুই দেশের জড়িত দলিলগুলো ইরানের অভ্যন্তরে বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের কারণ হয়েছে।

খামেনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্পর্কিত গোষ্ঠীগুলো হাজার হাজার নাগরিকের প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং দেশের অবকাঠামোকে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তিনি এই ক্ষতিগুলোকে “বৃহৎ ক্ষয়ক্ষতি” হিসেবে বর্ণনা করেন।

ইরান দীর্ঘদিন থেকে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জন্য বিদেশি হস্তক্ষেপের দায় বহন করে আসছে। শাসক কর্তৃপক্ষের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ইরানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায় এবং মাঠে সরাসরি অপারেশন পরিচালনা করে।

সরকারের দৃষ্টিতে, বর্তমান বিক্ষোভকে শত্রু শক্তির সহায়তায় সংঘটিত “দাঙ্গা” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, এই দাঙ্গা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করেছে।

খামেনি সতর্ক করেন, ইরান সীমান্তের বাইরে সংঘাত বাড়াতে চায় না, তবে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তি না দিয়ে ছাড়বে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাসনের স্থিতিশীলতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। প্রতিবাদকারীরা শাসনের অবসান ও নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর দাবি করে তীব্রভাবে সাড়া দিচ্ছেন, যা সরকারকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য করেছে।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যে বহু এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলেছে এবং প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে গুলিবর্ষণ, গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক বিচ্ছিন্নতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

খামেনির মন্তব্যের পর, ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিন্দা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা দাবি করছেন, এই দুই দেশের নীতি ইরানের সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন।

বিক্ষোভের ভবিষ্যৎ দিক নিয়ে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা অব্যাহত থাকে তবে প্রাণহানি বাড়তে পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে গভীর হতে পারে। সরকারকে এখনো স্পষ্ট কোনো সমঝোতা বা সমাধানের পথ প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের শাসনব্যবস্থা এই সময়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও অভ্যন্তরীণ ঐক্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করার রেটোরিক দেশীয় বিরোধকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে পারে।

বিক্ষোভের পরিণতি ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনও অনিশ্চিত, তবে স্পষ্ট যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ঘটনাকে বিদেশি হস্তক্ষেপের ফল হিসেবে উপস্থাপন করে দেশীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপের ন্যায়সঙ্গততা জোর দিচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments