শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের উপজেলার সখিপুর বাজারে শনিবার বিকেলে এক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সখিপুর থানা ওসির (অফিসার) মো. নাজিম উদ্দিন মজুমদারকে ছাত্রলীগের একজন নেতা ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়।
ধাক্কা মারার সন্দেহভাজন আতিকুল ইসলাম সোমেল, সখিপুর থানা ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি এবং সখিপুর ইউনিয়নের কান্দি গ্রাম থেকে। তিনি মৃত মজিবুর সরদারের পুত্র, যিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত ছিলেন।
ওসি মজুমদার জানান, তিনি বাজারে খোলা তেল বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার জন্য উপস্থিত ছিলেন। সতর্কতা দেওয়ার কাজ শেষে তিনি বাজারের একটি দোকানে ছাত্রলীগের সভাপতিকে দেখেন।
সেই মুহূর্তে সোমেল ওসির দিকে তাকিয়ে দ্রুত দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ওসি তার পরিচয় জানতে চাওয়ার পরেও সন্দেহভাজন কোনো উত্তর না দিয়ে ওসির দিকে এগিয়ে এসে তাকে ধাক্কা দেন এবং তৎক্ষণাৎ সেখান থেকে দূরে সরে যান।
ধাক্কা মারার ফলে ওসির বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুলের নখ অর্ধেক পর্যন্ত উঠে যায়। আহত অবস্থায় তিনি নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে তিনি জানিয়েছেন যে, তার আঘাত গুরুতর নয়, তবে নখের ক্ষতির জন্য সেলাই করা হয়েছে।
ওসির মতে, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি সন্দেহভাজনকে ধরার চেষ্টা করেন, তবে শারীরিকভাবে সামলাতে না পারায় তাকে তাড়া করতে পারেননি। পরে তিনি বিষয়টি তার তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ও উচ্চতর কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেন।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ওসির ওপর আক্রমণ করা একটি অপরাধ, যা আইনানুগভাবে দণ্ডনীয়। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে, পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্য কোনো সরকারি কর্মীর ওপর শারীরিক আক্রমণ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপিত হতে পারে।
সোমেল ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি হওয়ায়, তার রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনের কার্যক্রম তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। ছাত্রলীগের স্থানীয় শাখা ও সংশ্লিষ্ট পার্টি সংগঠনকে এই ঘটনার ব্যাপারে জানানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজনের পেছনে থাকা কোনো সহায়ক বা সহকর্মী আছে কিনা তা যাচাই করছে। এছাড়া, বাজারে খোলা তেল বিক্রির বিরুদ্ধে চলমান ক্যাম্পেইনও পুনরায় চালু করা হবে, যাতে এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ রোধ করা যায়।
অফিসার মজুমদার উল্লেখ করেন, তিনি ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে চান এবং বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখবেন।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি সমন্বিতভাবে কাজ করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।



