বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শনিবারের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের দ্রুতগতি বোলার নাহিদ রানা চার ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিলেন, যা তার টি‑টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা রেকর্ড হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হলো। রাইডার্সের এই পারফরম্যান্স দলকে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মিরপুরের শের‑ই‑বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে নাহিদের বোলিং গতি প্রায় দেড়শ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বজায় রাখে, যা পুরো ওভার জুড়ে ধারাবাহিক ও ছন্দময় রিদম তৈরি করে। তার এই গতি এবং নিয়ন্ত্রণের ফলে ব্যাটসম্যানদের শটের সুযোগ কমে যায় এবং রাইডার্সের দমনমূলক বোলিং পরিকল্পনা সফল হয়।
ম্যাচের পঞ্চম ওভারে নাহিদ প্রথম বলেই সাইফ হাসানকে বোল্ড করে দেন, যার ফলে দুই রানই আসে। পরের ওভারে তিনি তৃতীয় ম্যানের দিকে অফ‑স্টাম্পের বাইরে সাব্বির রহমানকে ধরা দিয়ে দ্বিতীয় উইকেট নেন, যদিও ব্যাটসম্যানের টাইমিং গতি কারণে ব্যর্থ হয়। এই ওভারে তিনি মাত্র তিন রানই ছাড়তে পেরেছেন।
দ্বাদশ ওভারে নাহিদ কোনো উইকেট না পেলেও মাত্র তিন রানই দিলেন, যা তার অর্থনৈতিক বোলিংকে আরও শক্তিশালী করে। তৎপরবর্তী ওভারে তিনি তৃতীয় উইকেট নিলেন, যখন ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনকে ক্যাভারে ধরা পড়ে। এই ওভারেরও রান মাত্র তিনটি ছিল।
মোট ২৪ বলের মধ্যে নাহিদের ১৪টি ডট বল ছিল, ফলে কোনো বাউন্ডারি না দিয়ে তিনি পুরো ওভার জুড়ে দমনমূলক বোলিং দেখালেন। তার এই পারফরম্যান্স রাইডার্সের জন্য স্বপ্নময় একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, বিশেষ করে তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ কম রান দেয়া রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে।
এই ম্যাচের আগে নাহিদ পাঁচটি ম্যাচে মোট চারটি উইকেট নিতেন এবং গড়ে ৭.৩১ রান প্রতি ওভার দিতেন। তাছাড়া তিনি তিনটি ম্যাচে দলের একাদশের বাইরে ছিলেন। তবে শের‑ই‑বাংলা স্টেডিয়ামের এই পারফরম্যান্সে তিনি তার গতি ও নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছেন, যা পূর্বের ম্যাচগুলোতে দেখা যায়নি।
নাহিদের পূর্ববর্তী পারফরম্যান্সের মধ্যে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ১৮ রান দিয়ে দুইটি উইকেট নেওয়া উল্লেখযোগ্য। তবে এই ম্যাচে তিনি পুরো চার ওভার বোলিং সম্পন্ন করে নিজের সেরা রেকর্ড তৈরি করেন।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে নাহিদের কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি কি কোনো বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন কিনা। তিনি উত্তর দেন, “আমি শুধু দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি” এবং যোগ করেন, “সুযোগ এলে প্রমাণ করব”—যা তার আত্মবিশ্বাসকে প্রকাশ করে।
রাইডার্সের কোচিং স্টাফ নাহিদের এই পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে বলেন, তার গতি ও ধারাবাহিকতা দলের বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দলের পরবর্তী ম্যাচে রাইডার্স আবার ঢাকা ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হবে, যেখানে নাহিদের বোলিং রোল পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রংপুর রাইডার্সের নাহিদ রানা এই সপ্তাহের ম্যাচে তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং রেকর্ড তৈরি করে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। তার গতি, নিয়ন্ত্রণ এবং উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা ভবিষ্যৎ ম্যাচে রাইডার্সের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।



