28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাপ্রাইভেট এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি শনাক্তে ডিআইএর কার্যক্রমে স্থবিরতা

প্রাইভেট এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি শনাক্তে ডিআইএর কার্যক্রমে স্থবিরতা

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) দেশের প্রায় ৩৯ হাজার বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম, শিক্ষক‑কর্মচারী নিয়োগের জালিয়াতি, নকল সনদ ইত্যাদি চিহ্নিত করার দায়িত্বে রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ডিআইএর কর্মীরা দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের মুখে। অধিকাংশ কর্মকর্তা এখনো মাঠে গিয়ে পরিদর্শন না করে, অফিসে সময় কাটাচ্ছেন বলে জানা যায়।

গত বছরের তুলনায় গত এক বছরে ডিআইএর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতি ধরা পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

কিছু ক্ষেত্রে, পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তারা ঘুষ গ্রহণের পর কোনো ত্রুটি না পাওয়া বলে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। এক শ্রেণির কর্মকর্তার মতে, এই ধরণের রিপোর্টই এখনো প্রায়ই তৈরি হয়।

ডিআইএর সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জুনিয়র কর্মকর্তাদের দাবিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারী কর্মীরা জানান, যখন তারা অনিয়ম প্রকাশের চেষ্টা করেন, তখন তাদের ওপর নানা ধরনের হয়রানি করা হয়।

দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত ও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ লক্ষ শিক্ষক‑কর্মচারী কর্মরত। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত নিরীক্ষা নিশ্চিত করতে ১৯৮৬ সালে ডিআইএ গঠন করা হয়।

ডিআইএর কাঠামোতে একজন পরিচালক, একজন যুগ্ম পরিচালক, চারজন উপপরিচালক, বারোজন পরিদর্শক ও বারোজন সহকারী পরিদর্শকসহ মোট ত্রিশজন কর্মকর্তা কর্মরত। এছাড়া অডিট দপ্তর থেকে চারজন অডিট অফিসার এবং নিজস্ব জনবল থেকে নয়জন অডিটরও দায়িত্ব পালন করেন।

কয়েকজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঘুষের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা অফিসে বসেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা সম্পন্ন করে, পরিবর্তে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ করে।

এই প্রক্রিয়ায়, যদি জুনিয়র অফিসাররা ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন, তবে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক হয়রানি করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

ডিআইএর কিছু কর্মকর্তা অফিসের কাজ না করে সারা দিন ব্যাচমেটদের সঙ্গে আড্ডা, তদবির ও পদোন্নতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি শনাক্তে প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যাহত হচ্ছে।

অফিসাররা দাবি করেন, পরিদর্শনের সংখ্যা কমলেও প্রতিবেদন যথাযথভাবে প্রস্তুত হয় এবং মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ডিআইএর পরিদর্শনকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ‘মিনিস্ট্রি অডিট’ নামে চেনে।

শিক্ষা নীতি অনুসারে, এই ধরনের দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতা ও নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন অপরিহার্য। পাঠকগণ যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের সন্দেহ পান, তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হটলাইন বা অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে অভিযোগ জানানো উচিত। এভাবে সমষ্টিগত নজরদারি দুর্নীতি কমাতে সহায়তা করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments