শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ‘কুয়াশার গান’ শিরোনামের সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানটি ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এবং সিটি ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়। কনসার্টে উপস্থিত হাজারো শিক্ষার্থী গান ও নৃত্যের সঙ্গে মঞ্চে কিছু রাজনৈতিক বার্তা শোনার সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানের মাঝামাঝি সময়ে ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) এর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দেক ইবনে আলী মোহাম্মদ মঞ্চে উঠে বিভিন্ন স্লোগান উচ্চারণ করেন। তিনি প্রথমে ‘কোটা না সংস্কার?’ শ্লোগানটি উচ্চস্বরে বলেন, যা ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী দাবি হিসেবে পরিচিত।
মুসাদ্দেকের স্লোগান শোনার সঙ্গে সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থী তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। প্রথমে কিছু অংশের শিক্ষার্থী ‘কোটা, কোটা’ চিৎকার করে স্লোগানকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। অন্য একটি গোষ্ঠী ‘ইউরেনিয়াম, ইউরেনিয়াম’ বলে স্লোগানের প্রতি বিদ্রূপ প্রকাশ করে, যা শোনার পর মঞ্চে উপস্থিতদের মধ্যে হাসি-হাসি করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
এরপর মুসাদ্দেক যখন ‘গোলামী না সংস্কার?’ শ্লোগানটি দেন, তখন নিচ থেকে শিক্ষার্থীরা ‘যুক্তরাজ্যের চাকরি’ বলে চিৎকার করে, যা আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের প্রতি তাদের উদ্বেগকে প্রকাশ করে। শেষের দিকে তিনি ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত স্লোগান ‘আমি কে তুমি কে?’ উচ্চারণ করলে, কিছু শিক্ষার্থী ‘মুসাদ্দেক, মুসাদ্দেক’ বলে তার নাম পুনরাবৃত্তি করে বিদ্রুপী সুরে প্রতিক্রিয়া জানায়।
কনসার্টে উপস্থিত ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আব্দুল কাদার এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা মূলত মুসাদ্দেকের ওপর বিরক্তি প্রকাশের জন্য এই স্লোগানগুলো ব্যবহার করেছে। তার মতে, মুসাদ্দেকের পূর্বে প্রকাশিত কিছু বিতর্কিত মন্তব্য ও অবস্থান শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা গড়ে তুলেছে।
মুসাদ্দেকের পূর্বের কিছু বক্তব্যের মধ্যে শিক্ষার্থীর অধিকার, কোটা নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত বিতর্কযোগ্য মতামত অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব মন্তব্যের ফলে তার প্রতি কিছু শিক্ষার্থীর অবিশ্বাস ও বিরক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কনসার্টের সময় তাদের স্লোগান পাল্টা হিসেবে প্রকাশ পায়।
অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক সিটি ব্যাংক এই সাংস্কৃতিক ইভেন্টের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, যা শিক্ষার্থীদের শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের সুযোগ বাড়ায়। শীতের এই সন্ধ্যায় কনসার্টটি সঙ্গীতপ্রেমী ও ছাত্রদের জন্য একটি বিশ্রাম ও আনন্দের মুহূর্ত ছিল, তবে স্লোগান পাল্টা ঘটনার ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে শিক্ষার্থীদের এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হয়। কেউ কেউ মুসাদ্দেকের স্লোগানকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রকাশ হিসেবে সমর্থন করে, আবার অন্যরা শিক্ষার্থীদের বিদ্রুপী স্লোগানকে ক্যাম্পাসে মতভেদ প্রকাশের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে স্বীকার করে। তবে বেশিরভাগ মন্তব্যে এই ধরনের স্লোগান পাল্টা ঘটনার ফলে ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
শিক্ষা সংক্রান্ত পরিবেশে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ের মিশ্রণ কখনো কখনো তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল এমন মুহূর্তে শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিজের মত প্রকাশের সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়া। আপনি যদি ক্যাম্পাসে কোনো মতবিরোধের মুখোমুখি হন, তবে শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও গঠনমূলক আলোচনা বজায় রাখার চেষ্টা করুন; এটি আপনার অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সমগ্র শিক্ষার পরিবেশকে সুস্থ রাখে।



