22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাখই খই মারমা ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে আটটি পদকে জয়ী, জুনিয়র‑সিনিয়র...

খই খই মারমা ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে আটটি পদকে জয়ী, জুনিয়র‑সিনিয়র দু’বিভাগে সোনার রেকর্ড গড়ে

রাঙামাটির দূরবর্তী পাহাড়ি গ্রাম থেকে উঠে আসা ১২শ শ্রেণির টেবিল টেনিসের তরুণী খই খই মারমা, গতকাল ঢাকা শহরে অনুষ্ঠিত ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে আটটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে ছয়টি সোনা, একটি রুপা ও একটি ব্রোঞ্জ জয় করে দেশের টেবিল টেনিসের শীর্ষে অধিষ্ঠিত হলেন।

চ্যাম্পিয়নশিপের আটটি শিরোপা জয় করার পরিসংখ্যানের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল জুনিয়র ও সিনিয়র দু’বিভাগেই একসাথে সোনার পদক অর্জন করা, যা পূর্বে রামহিম লিয়ান বমের রেকর্ডকে পুনরায় লিখে। একই প্রতিযোগিতায় দু’বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হওয়া তার জন্য একটি বিরল কীর্তি হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়েছে।

খই খই মারমা দলগত ফাইনালে মৌ আপুর কাছে হারে যাওয়ার পরেও তার দৃঢ়সংকল্প বাড়ে বলে জানান। “হারা আমাকে আরও বেশি কঠোর পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করেছে,” তিনি বলেন, যা শেষ পর্যন্ত তাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে।

তার সাফল্যের পেছনে রয়েছে বান্দরবানের অবৈতনিক কোয়ান্টাম স্কুলের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ। ২০১৫ সালে মাত্র আট বছর বয়সে কোয়ান্টামে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তিনি পড়াশোনা ও টেবিল টেনিসের সমন্বয় করে চলেছেন। কোয়ান্টামের পরিবেশে টেনিসের হাতেখড়ি নেওয়া সত্ত্বেও, রাঙামাটির বাড়ি থেকে দূরে থাকা সময়ে তার মন প্রায়ই গ্রামেই ফিরে যেত, এমন স্মৃতি তিনি ভাগ করে নেন।

খই খই মারমা নিজেকে একটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার চুশাক পাড়া গ্রাম থেকে এসেছেন এবং আগে কখনো দেশের শীর্ষ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় হবে এমন কোনো স্বপ্ন কল্পনা করেননি। “শিক্ষা নিয়ে বেশি চিন্তা করতে হতো, খেলাধুলা নিয়ে তেমন কোনো পরিকল্পনা না থাকায় স্বপ্নের দিকে এগোনো কঠিন ছিল,” তিনি স্বীকার করেন।

কোয়ান্টাম স্কুলে প্রশিক্ষণের সময় তিনি সোমা আপু ও মৌ আপুর মতো শীর্ষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাদের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা গড়ে ওঠে। তিনি যোগ করেন যে, কোচ খন্দকার হাসান মুনীর সুমন স্যারের দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না। স্যার চারজনের (খই খই সহ) দায়িত্ব নেন এবং ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বাড়ান।

গত নভেম্বর, রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে তিনি মিশ্র দ্বৈত জোড়া জাভেদ আহমেদের সঙ্গে রুপা পদক জিতেছিলেন, যা দেশের টেবিল টেনিসে দক্ষিণ এশিয়া বাইরে প্রথম আন্তর্জাতিক পদক হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হয়। এই অর্জনকে তিনি “স্বপ্নের মতো” বর্ণনা করেন এবং বলেন, এটি তার আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

খই খই মারমা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আরও সোনার পদক জয়ের লক্ষ্য রাখছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এখন পর্যন্ত অর্জিত সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করেছে এবং দেশের টেবিল টেনিসের মানোন্নয়নে অবদান রাখতে চান।

জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একাধিক পদক জয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুপা পদক অর্জনের পর, খই খই মারমা দেশের টেবিল টেনিসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন। তার গল্পটি ছোট গ্রাম থেকে উঠে এসে ক্রীড়া জগতে শীর্ষে পৌঁছানোর একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ, যা দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য এক মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments