বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রাহমান গতকাল বাংলাদেশ চীন বন্ধুত্ব সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত শোকসভায় শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি কথা বললেন। এই সভা ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ সমন্বয়ে আয়োজিত হয়, যেখানে নিখোঁজ, গৃহহত্যা ও নির্যাতনের শিকারদের আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। তরিক রাহমানের উপস্থিতি এবং তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল শোকগ্রস্ত পরিবারকে রাজনৈতিক সমর্থন জানানো এবং ভবিষ্যৎ নীতি সম্পর্কে ধারণা প্রদান।
সভায় উপস্থিত পরিবারগুলোর মধ্যে বহু সন্তান ও মা-বোন ছিলেন, যারা বহু বছর ধরে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনের প্রত্যাবর্তনের আশায় অপেক্ষা করছেন। তাদের কণ্ঠে কাঁদা ও দুঃখের ছাপ স্পষ্ট ছিল, এবং তরিক রাহমান শোনার সময় কখনও কখনও চোখে জল ফেলতে দেখা গিয়েছিল। তিনি উপস্থিত আত্মীয়স্বজনকে আলিঙ্গন করে সান্ত্বনা প্রদান করেন, যা শোকের মুহূর্তে এক ধরনের মানবিক সংযোগের সূচনা করে।
তরিক রাহমানের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে গত পনেরো বছরে নিখোঁজ ও গৃহহত্যার শিকারদের স্মরণে প্রধান সড়ক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঐসব কষ্টের স্মৃতি থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, দমনমূলক পরিবেশের মুখেও বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা কখনো লুকিয়ে না থেকে সরাসরি সক্রিয়তা বজায় রেখেছেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রাহমানের মতে, কোনো বাহ্যিক ষড়যন্ত্র বা প্রোপাগান্ডা দলকে দুর্বল করতে পারে না, যদি তাদের নেতৃত্ব ও কর্মীরা ন্যায়বিচারের জন্য অটল থাকে। তিনি এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে বিশ্লেষণ করে বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং শোকগ্রস্ত পরিবারকে সঠিক আইনি সুরক্ষা দিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠন অপরিহার্য।
শোকসভার শেষে তরিক রাহমান পরিবারগুলোর সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যান এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা সম্পর্কে জানেন। তিনি উল্লেখ করেন, শোকের এই দীর্ঘ অপেক্ষা রাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুতর দায়িত্ব বহন করে, এবং সরকারকে এই দায়িত্বটি পূরণ করতে হবে।
বিএনপি নেতার এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোকে রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করা যাবে না এবং তাদের কষ্টের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তরিক রাহমানের এই দৃঢ় অবস্থান শোকের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে পার্টির সমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যেও কাজ করতে পারে।
শোকসভার সময় উপস্থিত কিছু মা, বোন ও কন্যা তাদের কষ্টের গল্প শেয়ার করেন, যেখানে তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো খবর না পেয়ে কাঁদতে থাকে। তরিক রাহমান তাদের কথা শোনার সময় শান্তভাবে মাথা নেড়ে শোকের অনুভূতি ভাগ করে নেন এবং নিজের চোখের জল গোপনে মুছে নেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রাহমানের এই প্রকাশ্য বক্তব্যের পর, শোকগ্রস্ত পরিবারগুলো থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়, যেখানে তারা পার্টির সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে ন্যায়বিচারের আশায় আস্থা প্রকাশ করে।
বিএনপি এই সভার মাধ্যমে শোকের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দায়িত্বের পুনর্ব্যক্তি করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করতে পারে। তরিক রাহমানের মতে, শোকের এই দীর্ঘ অপেক্ষা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় দায়িত্ব, এবং এই দায়িত্বের পূরণে সরকারকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।
শোকসভার শেষে তরিক রাহমানের উপস্থিতি ও তার আবেগপূর্ণ আচরণ শোকের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সংহতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি শোকের সঙ্গে সঙ্গে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে শোকগ্রস্ত পরিবারকে আশ্বাস দেন।
এই সভা এবং তরিক রাহমানের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে শোকের সঙ্গে সঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আহ্বানও শোনা যায়। ভবিষ্যতে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে শোকের স্মৃতি সংরক্ষণে নামকরণ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে, যা শোকগ্রস্ত পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদী স্বীকৃতি প্রদান করবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তরিক রাহমানের এই প্রকাশ্য বক্তব্য শোকের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ন্যায়বিচারের আহ্বানকে একত্রিত করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন আলো জ্বালাবে।



