জাতীয় নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার জন্য গুণগত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং রোগীর নিজস্ব ব্যয়ের পরিমাণ কমানো সরকারী অগ্রাধিকারের শীর্ষে থাকা উচিত।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বর্তমানে দুর্বল এবং আর্থিক সহায়তা কম, বিশেষত নগর এলাকায় এই ঘাটতি স্পষ্ট। যদিও প্রাথমিক সেবা রোগ প্রতিরোধ ও উচ্চ চিকিৎসা খরচের কারণে দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবু এর অবস্থা যথাযথ নয়।
স্বাস্থ্যকে একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে, সকল সরকারি নীতি ও কার্যক্রমে স্বাস্থ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দেন। এই সমন্বিত পদ্ধতি স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
প্রস্তাবিত সংস্কার পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা তিনটি স্বতন্ত্র দিকের অধীনে পুনর্গঠন করা হবে: ক্লিনিক্যাল, একাডেমিক এবং জনসাধারণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। প্রতিটি দিকের জন্য আলাদা পরিচালক ও পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যাবে।
বাজেট বৃদ্ধি, পরিষ্কার দায়িত্ববণ্টন এবং স্বচ্ছতা বাড়িয়ে স্বাস্থ্যসেবার দক্ষতা ও জবাবদিহিতা উন্নত করার লক্ষ্য এই কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে মুখোমুখি প্রধান সমস্যাগুলো হল অপর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি, রোগীর নিজস্ব ব্যয়ের উচ্চতা, সেবার অসম বণ্টন এবং দুর্বল শাসনব্যবস্থা। এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান না হলে সেবা গুণমান আরও হ্রাস পাবে।
হাজার হাজার মানুষ এখনও মানসম্পন্ন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত, আর মোট সন্তান জন্মের হার ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রফেসর এম.এ. ফয়েজের মতে, নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবহেলা বিশেষত তীব্র, তাই গ্রাম-নগর পার্থক্য না করে এই সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি প্রস্তাব করেন, নির্দিষ্ট জনসংখ্যার জন্য ডাক্তার-নেতৃত্বাধীন দল গঠন করা হোক, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি সেবা পেতে পারে এবং কেউ বাদ না থাকে।
বাংলাদেশে সার্বজনীন সেবা প্যাকেজের নামমাত্র উপস্থিতি রয়েছে, তবে বাস্তবে এর পরিধি সীমিত। এই প্যাকেজকে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করা, সেবার সংখ্যা ও কভারেজ বাড়ানো জরুরি।
বাজেটের অংশ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য নীতি ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের নীতি সমন্বয়, এবং কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গঠনই এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি।
নির্বাচনের সময় স্বাস্থ্য খাতের এই মৌলিক চাহিদা রাজনৈতিক এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে, দেশের সামগ্রিক কল্যাণে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
পাঠক হিসেবে আপনার কি মনে হয়, আসন্ন নির্বাচনে স্বাস্থ্যসেবার সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নাকি অন্য কোনো বিষয়কে প্রধানতা দিতে হবে?



