প্রখ্যাত তামিল অভিনেতা দ্যানুশের ম্রুনাল থাকুরের সঙ্গে বিবাহের গুজব সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও, মুম্বাইয়ের একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযোজক‑দিগ্রীর বন্ধুর স্পষ্ট মন্তব্যে এই অফবাহের সত্যতা সম্পূর্ণরূপে খারিজ হয়েছে। গুজবটি বিশেষ করে ভ্যালেন্টাইন ডে, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিবাহের পরিকল্পনা হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, যা দুজনের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল।
গুজবের মূল সূত্রগুলো মূলত অনানুষ্ঠানিক সূত্র ও অনলাইন পোস্ট থেকে উঠে এসেছে, যেখানে দুজনের মধ্যে রোমান্টিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। তবে কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি, ছবি বা বিবাহের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা কখনো প্রকাশিত হয়নি, ফলে গুজবের ভিত্তি মূলত অনুমান ও কল্পনা।
মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রখ্যাত প্রযোজক‑দিগ্রি, যাকে দ্যানুশের কাছাকাছি বন্ধু ও আত্মীয়ের মতো বিবেচনা করা হয়, গুজবের ব্যাপারে সরাসরি মন্তব্য করে। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি দ্যানুশের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ রাখেন, তবু কোনো বিবাহের কথা শোনেননি। তার মতে, যদি দ্যানুশ নিজেই তার নিকটতম বন্ধুদের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি শেয়ার না করে থাকেন, তবে অন্য কেউ কীভাবে জানবে? এই বক্তব্য গুজবের ভিত্তি নষ্ট করে।
বন্ধুটি হালকা স্বরে একটি রসিকতা যোগ করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে যদি সত্যিই দ্যানুশের বিবাহের পরিকল্পনা থাকে, তবে দুজনের কাছে এক মাসের কম সময় থাকবে প্রস্তুতির জন্য। তিনি এই মন্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, এমন একটি বড় অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করতে হলে যথেষ্ট সময় ও প্রস্তুতি প্রয়োজন, যা বর্তমান গুজবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
দ্যানুশের পরিবারিক সদস্যদের কথাও গুজবের বিরোধে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও মূল নিবন্ধে পূর্ণ বিবরণ না থাকলেও, পূর্বে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী দ্যানুশের নিকট আত্মীয়দেরও একই রকম মন্তব্য করে গুজবকে অস্বীকার করেছেন। কোনো পারিবারিক সদস্যই বিবাহের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা বা তারিখের কথা নিশ্চিত করেননি।
ম্রুনাল থাকুরের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি সামাজিক মাধ্যমে বা কোনো সাক্ষাৎকারে গুজবের প্রতি কোনো স্বীকৃতি দেননি, যা গুজবের অবিশ্বাস্যতা বাড়িয়ে তুলেছে। তার অফিসিয়াল পেজে কোনো বিবাহের ঘোষণা বা ছবি শেয়ার করা হয়নি।
এই গুজবের উত্পত্তি মূলত অনলাইন ফ্যান ক্লাব ও গসিপ সাইট থেকে হয়েছে, যেখানে দুজনের পেশাগত সম্পর্ককে রোমান্টিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে শিল্প জগতের অভ্যন্তরে এমন গুজব প্রায়ই দেখা যায়, এবং প্রায়শই তা দ্রুতই অস্বীকার করা হয়।
দ্যানুশের ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি মিডিয়ার আগ্রহের ফলে এমন গুজবের সৃষ্টি স্বাভাবিক, তবে তার নিকট বন্ধু ও পরিবারিক সদস্যদের স্পষ্ট অস্বীকৃতি গুজবকে অবৈধ করে তুলেছে। কোনো সরকারী বিবাহের পরিকল্পনা বা রেজিস্ট্রেশন রেকর্ডও প্রকাশিত হয়নি।
ভ্যালেন্টাইন ডে, যা প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য বিশেষ দিন, গুজবের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে দ্যানুশের বন্ধুর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, এই তারিখে কোনো বিবাহের পরিকল্পনা নেই এবং গুজবটি কেবল অপ্রমাণিত অনুমান।
ফ্যানদের মধ্যে গুজবের প্রতি কিছুটা উত্তেজনা দেখা গিয়েও, অধিকাংশই দ্যানুশের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল থেকে কোনো নিশ্চিতকরণ না পাওয়ায় সন্দেহের মধ্যে রয়েছেন। গুজবের বিস্তার থামাতে দ্যানুশের দলও ভবিষ্যতে কোনো বিবাহের পরিকল্পনা থাকলে তা সরাসরি জানাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, দ্যানুশের নিকট বন্ধুর স্পষ্ট অস্বীকৃতি ও কোনো সরকারি ঘোষণা না থাকায়, দ্যানুশ ও ম্রুনাল থাকুরের বিবাহের গুজবকে বর্তমানে অপ্রমাণিত ও অবিশ্বাস্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। গুজবের উত্পত্তি ও তার পরবর্তী প্রভাব সম্পর্কে মিডিয়া ও ফ্যানদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হতে পারে, তবে বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে কোনো বিবাহের পরিকল্পনা নিশ্চিত নয়।
এই পরিস্থিতিতে, ভক্ত ও মিডিয়া উভয়েরই উচিত গুজবের পরিবর্তে যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া, যাতে অপ্রয়োজনীয় অশান্তি ও ভুল ধারণা সৃষ্টি না হয়। দ্যানুশের ভবিষ্যৎ প্রকল্প ও চলচ্চিত্রের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিৎ, বিবাহের গুজবের চেয়ে।



