বেরলিনে শনিবার রাত ৩৮তম ইউরোপীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (EFAs) অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ড্যানিশ অভিনেতা স্টেলান স্কার্সগার্ডকে সেরা অভিনেতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। স্কার্সগার্ডকে জয়ী করা কাজটি জোয়াকিম ত্রিয়ের পরিচালিত ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ ছবির প্রধান চরিত্রের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। একই রোলের জন্য তিনি এক সপ্তাহ আগে গ্লোবাল গল্ড গ্লোব পুরস্কারেও সেরা সহায়ক অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
EFAs-এ এই বছরের শিফটের কারণ উল্লেখ করা হয়; পূর্বে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি এই বছর জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে স্থানান্তরিত করা হয়, যাতে ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক পুরস্কার, বিশেষ করে অস্কার, নিয়ে আলোচনার তীব্রতা বাড়ে। অনুষ্ঠানটি কোনো রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা বজায় রাখার চেয়ে, রাজনৈতিক বিষয়গুলোকে সরাসরি মঞ্চে আনার জন্য পরিকল্পিত ছিল।
ইরানের চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফার প্যানাহি অনুষ্ঠানের সূচনায় মঞ্চে উঠে একটি বিবৃতি পাঠ করেন। তিনি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে তেহরানের শাসনের সহিংসতা এবং বিরোধী প্রতিবাদকারীদের ওপর গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করেন। প্যানাহি বিশ্বকে আহ্বান জানান, এই ধরনের সহিংসতা উপেক্ষা করা হলে তা স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
প্যানাহি তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “যদি এক দেশকে সহিংসতা থেকে রক্ষা না করা হয়, তবে পুরো বিশ্বই ঝুঁকিতে পড়ে। সত্য যদি এক জায়গায় দমন হয়, তবে স্বাধীনতা সর্বত্র নিঃশ্বাস বন্ধ করে। এই মুহূর্তে শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নীরব থাকা কোনো নিরপেক্ষতা নয়, বরং অন্ধকারে অংশগ্রহণ।” তার এই উক্তি ইরানের কঠোর দমন নীতির দশ দিন পরের সময়ে শোনানো হয়, যখন দেশের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদে প্রাণহানি ও গ্রেপ্তার বাড়ছে।
অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ৩,০০০ প্রতিবাদকারীকে হত্যা করেছে এবং প্রায় ১৮,০০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্যানাহি তার ভাষণে প্রায় ১২,০০০ মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ করেন, যা পরিস্থিতির তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে।
EFAs-এ পরিচালকের বিভাগে প্যানাহি, ল্যাক্সে, ত্রিয় এবং শিলিনস্কি সহ কয়েকজন নাম উল্লেখ করা হয়। এই প্রার্থীরা ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের সৃজনশীল দিকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যেখানে প্যানাহি তার রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি শিল্পকর্মের জন্যও স্বীকৃতি পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের অন্য অংশে, স্কার্সগার্ডের সেরা অভিনেতা পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ ছবির থিম ও চরিত্রের গভীরতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন, তবে তার বক্তব্যে কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে শিল্পের মূল্যায়নে মনোযোগ দেন।
এই বছরের EFAs-এ পুরস্কার বিতরণ এবং রাজনৈতিক বার্তা দুটোই সমান গুরুত্ব পেয়েছে। শোয়ের আয়োজকরা উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়াতে এবং একই সঙ্গে শিল্পের সামাজিক দায়িত্বকে তুলে ধরতে এই মঞ্চটি ব্যবহার করা হয়েছে।
বেরলিনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি অস্কার সিজনের পূর্বাভাসের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের সেরা কাজগুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার মাধ্যমে, এই পুরস্কারগুলো অস্কার জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, স্টেলান স্কার্সগার্ডের সেরা অভিনেতা পুরস্কার এবং প্যানাহির ইরানের মানবাধিকার উদ্বেগের প্রকাশ EFAs-কে কেবল শিল্পের উদযাপন নয়, বরং রাজনৈতিক সচেতনতার মঞ্চে রূপান্তরিত করেছে। এই দুইটি ঘটনা ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও আন্তর্জাতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



