সালজবার্গের কাছাকাছি পংগাউ অঞ্চলে শনিবার ভোরে ভারী তুষারপাতের পর দু’টি স্নোপ্রলয় ঘটেছে। এই দু’টি স্লাইডে মোট পাঁচজন অফ‑পিস্ট স্কি খেলোয়াড়ের প্রাণ শেষ হয়েছে, আর একজন গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
প্রথম স্নোপ্রলয়টি পংগাউ এলাকার একটি উঁচু পাহাড়ে সাতজন স্কি গ্রুপের উপর আঘাত হানে। তীব্র গড়িয়ে যাওয়া তুষার তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধা দেয়, ফলে চারজনের জীবন তৎক্ষণাৎ শেষ হয়। বাকি তিনজনের মধ্যে একজনকে তীব্র শ্বাসকষ্টের সঙ্গে উদ্ধার করা হয়, অন্য দুইজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় পর্বত রেসকিউ দলটি প্রায় ১৪:০০ স্থানীয় সময়ে (১৩:০০ GMT) ঘটনাটির খবর পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তৎক্ষণাৎ কাজ শুরু করে। রেসকিউ কর্মীরা দ্রুত এলাকায় পৌঁছে, মৃতদেহ ও আহত ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় করে, এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। আহত স্কি খেলোয়াড়ের অবস্থা গুরুতর, তাই তাকে নিকটস্থ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়।
প্রথম স্নোপ্রলয়ের প্রায় এক ঘন্টার আগে, একই অঞ্চলের খোলা আলপাইন ভূমিতে একটি নারী স্কি খেলোয়াড়কে স্নোপ্রলয় আচ্ছন্ন করে। তিনি তৎক্ষণাৎ গড়িয়ে যাওয়া তুষারে ঢেকে যায় এবং উদ্ধার দল সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় তার প্রাণ শেষ হয়। এই দু’টি ঘটনার মধ্যে সময়ের পার্থক্য প্রায় এক ঘন্টার বেশি, যা অঞ্চলটির বর্তমান স্নোপ্রলয় ঝুঁকির তীব্রতা নির্দেশ করে।
পংগাউ পর্বত রেসকিউ পরিষেবার জেলা প্রধান গেরহার্ড ক্রেমসার এই দু’টি ট্র্যাজেডি নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, “এই দুঃখজনক ঘটনা বর্তমান স্নোপ্রলয় পরিস্থিতির গম্ভীরতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।” তিনি পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, স্কি প্রেমিক ও পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান।
সেই দিন মধ্যাহ্নে পংগাউ অঞ্চলে আরও কয়েকটি স্নোপ্রলয় রেকর্ড করা হয়, তবে সেসব ঘটনার ফলে কোনো নতুন আহত বা মৃতের সংখ্যা রিপোর্ট করা হয়নি। রেসকিউ দল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে সতর্কতা জারি করে, এবং স্কি প্রেমিকদের অফ‑পিস্ট গন্তব্যে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়।
পশ্চিম অ্যালপসের সাম্প্রতিক সপ্তাহে স্নোপ্রলয়ের ফলে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। মঙ্গলবার, অস্ট্রিয়ার বাদ গাস্টেইন রিসোর্টে ১৩ বছর বয়সী চেক প্রজাতন্ত্রের একটি ছেলে স্কি করার সময় স্নোপ্রলয়ে ধসে গিয়ে মারা যায়। আর গত রবিবার, টিরোলের ওয়েবার্গ রিসোর্টে ৫৮ বছর বয়সী এক স্কি খেলোয়াড় একই ধরনের দুর্যোগে প্রাণ ত্যাগ করেন।
সুইজারল্যান্ডের সীমানায়ও স্নোপ্রলয় ঘটেছে; একটি জার্মান নাগরিক ক্রস‑কান্ট্রি স্কি করার সময় স্নোপ্রলয়ে ধসে গিয়ে মারা যান, আর চারজন অন্য স্কি প্রেমিক আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।
ফ্রান্সের আলপসেও শেষ সপ্তাহান্তে একই রকম দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন রিসোর্টে একাধিক স্নোপ্রলয় ঘটায় ছয়জন স্কি খেলোয়াড়ের প্রাণ শেষ হয়। এই ধারাবাহিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান অ্যালপসের শীতকালীন পর্যটন ও স্কি কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সামগ্রিকভাবে, অস্ট্রিয়ার পংগাউ ও পার্শ্ববর্তী অ্যালপস অঞ্চলে স্নোপ্রলয়ের ঝুঁকি বর্তমানে অত্যন্ত উচ্চ। পর্বত রেসকিউ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্কি প্রেমিকদের অফ‑পিস্ট গন্তব্যে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে, হাওয়া ও তুষারপাতের পূর্বাভাস ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করতে এবং জরুরি সতর্কতা মেনে চলতে আহ্বান জানাচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শীতকালীন স্পোর্টসের আনন্দ ক্ষণিকেই শেষ হতে পারে।



