মুম্বাইতে বিখ্যাত অভিনেতা সৈফ আলি খানকে লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন চোরাচালানকারী এক ব্যক্তি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে তার ব্যান্ড্রা অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করে ছয়বার ছুরি ব্যবহার করে আক্রমণ করে। আক্রমণের পর মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজনের চিহ্নিত চিত্রটি রেলওয়ে সিকিউরিটি ফোর্স (RPF)‑কে জানায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ৫০ ঘণ্টা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর চহরীঘাট, ছত্তিশগড়ের দুর্গে দ্বিতীয় সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়।
গ্রেফতারের সময় সন্দেহভাজন সাধারণ কোচে যাত্রা করছিল এবং রেলওয়ে কর্মীরা তাকে থামিয়ে নেয়। তার চেহারা এবং পোশাক, বিশেষ করে কালো “ফাস্ট ট্র্যাক” ব্যাগ বহন করা, পূর্বে ব্যান্ড্রা ও দাদার রেলওয়ে স্টেশন থেকে নেওয়া সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে মিলে যায়। এই ব্যাগটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, কারণ তা আক্রমণের সময় সন্দেহভাজন হাতে দেখা গিয়েছিল।
সিসিটিভি রেকর্ডে দেখা যায়, সন্দেহভাজন ব্যান্ড্রা এবং দাদার স্টেশন থেকে বেরিয়ে একটি ট্রেনে চড়ে দক্ষিণের দিকে রওনা হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কবার্তা জারি করে এবং রেলওয়ে কর্মীদেরকে সন্দেহভাজনের সন্ধানে সতর্ক করে। ফলে দুর্গে পৌঁছানোর সময় স্থানীয় পুলিশ ও রেলওয়ে গার্ডদের সমন্বয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারের সময় সন্দেহভাজনের মোবাইল নম্বরটি রাজেন্দ্র কোডেপে নামের অধীনে রাজনন্দগাঁও জেলার রেজিস্টার্ড ছিল বলে জানা যায়, তবে নামের সঠিকতা ও পরিচয় নিশ্চিত করা এখনও বাকি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, সন্দেহভাজন যে ব্যাগটি বহন করছিল তা স্থানীয় কোনো রাস্তার বাজার থেকে কেনা হয়েছে।
সৈফ আলি খানের ওপর আক্রমণটি রাতের বেলা একটি সন্দেহজনক চুরি প্রচেষ্টার সময় ঘটেছিল। আক্রমণকারী ছয়টি ছুরি ব্যবহার করে অভিনেতার পিঠে আঘাত হানেন, যার ফলে ২.৫ ইঞ্চি লম্বা একটি ধার তার মেরুদণ্ডে আটকে যায়। আহত অভিনেতা তৎক্ষণাৎ একটি অটো রিকশা চালকের সাহায্যে লিলাভতি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দ্রুত শল্যচিকিৎসা করা হয় এবং ধারটি অপসারণের পর সৈফের অবস্থা স্থিতিশীল হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শল্যচিকিৎসার পরেও তিনি কিছু সময়ের জন্য শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে।
মুম্বাই পুলিশ এখন পর্যন্ত কয়েকজন মূল সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলেছে, যার মধ্যে অভিনেতার স্ত্রী ক্যারিনা কাপুর খান, তাদের ন্যানি এবং আক্রমণের সময় অটো রিকশা চালক অন্তর্ভুক্ত। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দৃঢ় প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা সরাসরি সন্দেহভাজনের সঙ্গে অপরাধকে যুক্ত করে।
প্রথমে ধরা পড়া সন্দেহভাজন, যাকে মধ্যপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তার সঙ্গে এই নতুন গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিচয় ও সম্পর্ক স্পষ্ট করা এখনো বাকি। তদন্তকারী দল উভয় সন্দেহভাজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং আক্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নির্ণয় করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মুম্বাই পুলিশ এবং রেলওয়ে সিকিউরিটি ফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত দুইজন সন্দেহভাজন গ্রেফতার হয়েছে, তবে মামলার চূড়ান্ত রায়ে পৌঁছাতে আরও তদন্তের প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে আশ্বস্ত করেছে যে, সব প্রমাণ সংগ্রহের পরই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



