ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড বুধবার সন্ধ্যায় ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ২-০ স্কোরে ডার্বি জয় অর্জন করে, যা ইন্টারিম কোচ মাইকেল ক্যারিকের দায়িত্বে প্রথম ম্যাচ। গেমের দুইটি গোল ব্রায়ান এমবুয়োমো এবং প্যাট্রিক ডর্গু করে, ফলে গ্যারি নেভিলের দল সিটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
ক্যারিক ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্সকে “অসাধারণ” বলে প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন যে বাকি ১৬টি ম্যাচে একই মান বজায় রাখা উচিত। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য স্বাভাবিকের একটি সংস্করণ হতে হবে, অতিরিক্ত আবেগের পরিবর্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।”
ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা মাঠে শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেছে, যা ক্যারিকের তত্ত্বাবধানে দলের পুনর্গঠনের লক্ষণ দেখায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি আমরা ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারি, তবে সাফল্যের পথে আমরা এগিয়ে যাব।”
ক্যারিকের দায়িত্বকাল শেষ মৌসুম পর্যন্ত নির্ধারিত, এবং এখন দলের একমাত্র লক্ষ্য ইউরোপীয় কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করা। তার মতে, “আমাদের প্রত্যেকেরই উচ্চ মানদণ্ডে পৌঁছাতে হবে, তা বাহ্যিক চাপ হোক বা অভ্যন্তরীণ প্রত্যাশা।”
ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচটি এয়ারসেনের বিরুদ্ধে হবে, যা আগামী রবিবার নির্ধারিত। ক্যারিক এই ম্যাচকে “বড় চ্যালেঞ্জ” হিসেবে উল্লেখ করে, তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে গতকালের জয় একটি দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
ম্যাচের পরে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গুওয়ার্ডিওলা ডালটের লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা ফলাফল বিশ্লেষণ করি, তবে আমরা এখনো প্রস্তুত নই, তবে পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি রয়েছে।”
গুওয়ার্ডিওলা আরও বলেন, “আজকের পারফরম্যান্স যথেষ্ট ছিল না, তবে পূর্বের ম্যাচগুলোতে আমরা যথেষ্ট ছিলাম। আমাদের লক্ষ্য হল ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারা।”
সিটিতে চারটি লিগ গেমে কোনো জয় না পাওয়া সত্ত্বেও, দলটি তিনটি ড্র করেছে, যা গুওয়ার্ডিওলার মতে এখনও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। তিনি যোগ করেন, “আমরা এখনো শিখছি, এবং আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
ডার্বি ম্যাচে ইউনাইটেডের রক্ষণাত্মক রেকর্ডও প্রশংসনীয় ছিল; সিটি কোনো গোল করতে পারেনি, যদিও তারা বেশ কয়েকটি শট তৈরি করেছে। ক্যারিক রক্ষণাত্মক সংগঠনকে “দলীয় আত্মবিশ্বাসের মূল ভিত্তি” বলে উল্লেখ করেন।
ইউনাইটেডের আক্রমণাত্মক দিকেও উন্নতি দেখা গেছে; এমবুয়োমোর দ্রুত দৌড় এবং ডর্গুর সঠিক সময়ে শেষ করা শট দুটোই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ক্যারিক এ বিষয়ে বলেন, “খেলোয়াড়দের সঠিক মুহূর্তে গতি ও শুটিংয়ের দক্ষতা আমাদের জয়ের চাবিকাঠি।”
ক্যাপিটালের এই জয় ইউনাইটেডের জন্য মানসিকভাবে বড় উত্সাহের কাজ, বিশেষ করে ইন্টারিম কোচের অধীনে প্রথম ম্যাচে। ক্যারিকের লক্ষ্য হল এই ইতিবাচক শক্তিকে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা।
সারসংক্ষেপে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডার্বি জয় এবং ক্যারিকের ধারাবাহিকতা নিয়ে জোর দেওয়া, দলকে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করেছে, আর সিটির কোচ গুওয়ার্ডিওলা দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষজনক দিকগুলো স্বীকার করে, তবে উন্নতির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন।



