ইউনিভার্সাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) আয়োজিত অ্যান্ড-১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী খেলায়, বাংলাদেশ দল ১৮ রানের পার্থক্যে ভারতকে পরাজিত করেছে। ম্যাচটি জিম্বাবুয়ের বুলাওয়ায় অনুষ্ঠিত হয় এবং ডি.এল.এস. পদ্ধতিতে নির্ধারিত লক্ষ্য ছিল ১৬৫ রান ২৯ ওভারের মধ্যে। বৃষ্টির কারণে খেলা থামার পর পুনরায় শুরু হওয়া সময়ে, বাংলাদেশ ৯০ রান দুই উইকেটের সঙ্গে ১৭.২ ওভারে পৌঁছায়, তবে পরের মুহূর্তে ধারাবাহিক পতন ঘটে।
ভারত প্রথমে ৪৮.৪ ওভারে ২৩৮ রান তৈরি করে, যার মধ্যে আবিগ্যন কুন্ডুর ৮০ রান এবং বৈভব সুর্যবংশীর ৭২ রান উল্লেখযোগ্য। উভয় ব্যাটসম্যানের আক্রমণাত্মক শটগুলো দলকে দ্রুত স্কোরে পৌঁছাতে সাহায্য করে, ফলে লক্ষ্য রানের পরিমাণ বাড়ে।
বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন আজিজুল হাকিম তামিম ৫১ রান করে টপ স্কোরার হন এবং রিফাত বেগের সঙ্গে ৬৮ রানের দ্বিতীয় উইকেটের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন, যেখানে রিফাত ৩৭ রান যোগ করেন। এই দৃঢ় অংশীদারিত্বের ফলে দলটি মাঝারি স্থিতি পায় এবং শুরুর দিকে রানের গতি বজায় রাখে।
বৃষ্টির বিরতির পর, ভারতীয় অফ-স্পিনার ভিহান মালহোত্রা ব্যাটিং লাইনে প্রবেশ করে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেয়। তিনি ১৪ রানেই চারটি উইকেট নেন, যা মাঝ এবং নিচের ক্রমের ব্যাটসম্যানদের দ্রুত আউট করে দেয়। তার এই পারফরম্যান্সের ফলে বাংলাদেশ দ্রুত ৪০ রানে আটটি উইকেট হারায়।
বিপর্যয়জনক এই পতনের পর, বাংলাদেশকে ৭৫ রান ৭০ বলের মধ্যে অর্জন করতে হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত দলটি ২৮.৩ ওভারে ১৪৬ রানেই আটকে যায়। ফলে ডি.এল.এস. পদ্ধতিতে নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ১৮ রান কমে তারা পরাজিত হয়।
বাংলাদেশের পেসার আল ফাহাদ এই ম্যাচে পাঁচটি উইকেট নিয়ে সেরা বলারূপে স্বীকৃত হন। তার দ্রুত গতি এবং সঠিক লাইন-লেংথে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকভাবে আউট করা দলকে কিছুটা সান্ত্বনা দেয়, তবে তা পর্যাপ্ত না হয়ে ফলাফল বদলাতে পারেনি।
ইন্ডিয়ার শীর্ষ স্কোরারদের পাশাপাশি, ভিহান মালহোত্রার স্পিনের প্রভাব এবং আল ফাহাদের পেসিং পারফরম্যান্স ম্যাচের মূল মুহূর্তগুলোকে নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ যদিও শুরুর দিকে দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, তবে রেইনব্রেকের পর ব্যাটিং ক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি।
এই পরাজয়ের পর, বাংলাদেশ দল গ্রুপ বি-তে তাদের পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত এবং দলটি পুনরায় সাফল্য অর্জনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ক্যাপ্টেন তামিমের ৫১ রান এবং রিফাত বেগের ৩৭ রান দলকে মাঝারি স্থিতি দিয়েছিল, তবে শেষ পর্যায়ে ব্যাটিং ক্রমের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভিহান মালহোত্রার চারটি উইকেটের পরিসংখ্যান এবং আল ফাহাদের পাঁচটি উইকেটের পারফরম্যান্স উভয়ই ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
ইন্ডিয়ার ২৩৮ রানের মোট স্কোর এবং বাংলাদেশ ১৪৬ রানের শেষ স্কোর উভয়ই ডি.এল.এস. পদ্ধতির অধীনে নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যা বৃষ্টির কারণে পরিবর্তিত শর্তের প্রভাবকে নির্দেশ করে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ আটটি উইকেটের জন্য মাত্র ৪০ রান হারায়, যা তাদের ব্যাটিং ক্রমের দুর্বলতা প্রকাশ করে। অন্যদিকে, ভারতীয় দল ৪৮.৪ ওভারে ২৩৮ রান তৈরি করে, যার গড় রেট প্রায় ৪.৯ রানে পৌঁছায়।
উল্লেখযোগ্য যে, এই ম্যাচে উভয় দলের প্রধান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ গেমে তাদের ভূমিকা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাংলাদেশকে এখন তাদের ব্যাটিং ধারাবাহিকতা এবং স্পিনের মোকাবিলায় উন্নতি করতে হবে, আর ভারতকে তাদের শীর্ষ স্কোরারদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশ যদি নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভাল পারফরম্যান্স করে, তবে গ্রুপে তাদের অবস্থান উন্নত করার সুযোগ পাবে। তবে বর্তমান পরাজয় দলকে পুনরায় গঠন এবং কৌশলগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।



