ঢাকার উত্তরা এলাকায় ১১ সেক্টরের ১১ নম্বর সড়কের পাশে অবস্থিত সাততলা আবাসিক ভবনে শুক্রবার সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনের ফলে দুই পরিবারসহ শিশুসহ মোট ছয়জনের প্রাণ ত্যাগ হয়েছে এবং আরও নয়জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের দল পৌঁছে অগ্নি নিভিয়ে উদ্ধার কাজ চালায়।
আগুনের পরিণতি জানার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. সালেহউদ্দিনকে নির্ধারিত করা হয়েছে। কমিটিতে ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে যে, আগুনের তীব্রতা এবং ভবনের কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ জানান, মৃতদেহের পরিচয় পরিবারকে জানানো হয়েছে এবং মৃতদেহের শেষ সংস্কার করা হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
ওসি রফিকের মতে, মৃতদেহের পরিবারগুলো বর্তমানে কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি এবং কোনো মামলা দায়েরের জন্য থানায় আসেনি। পরিবারের অবস্থা ও শোকের পরিমাণ বিবেচনা করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
প্রাথমিক তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ নির্ধারণ করা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ সিআইডি ও পিবিআই সমন্বয়ে চলছে। উভয় সংস্থা প্রমাণের বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য দায়িত্বশীলদের সনাক্তকরণের জন্য কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে জানা যায়, আগুনের প্রথম প্রভাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় দেখা দেয়। এরপর অগ্নি দ্রুত উপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ে, যা কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ভবনের নকশার কারণে তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ডুপ্লেক্স বাড়ির নিচতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। সেখানে ব্যবহৃত চুলায় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়, যা লিক বা অতিরিক্ত চাপের ফলে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। এছাড়া, রান্নাঘরের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ত্রুটি থেকেও অগ্নি সৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডি ও পিবিআই উভয়ই ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাচ্ছে। তারা আগুনের তাপমাত্রা, ধোঁয়ার গঠন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি উৎসের ওপর ভিত্তি করে তদন্তের দিক নির্ধারণ করবে। ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বলছেন, প্রমাণের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা চিহ্নিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, ভবনের নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন এবং ভবন মালিকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হবে। এছাড়া, ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সিমুলেশন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তদন্ত কমিটি আগামী কয়েক দিন মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে। প্রতিবেদনটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং ভবনের কাঠামোগত ত্রুটি বিশ্লেষণ করবে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অবশেষে, স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় ভবনের বাসিন্দা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা গৃহীত হবে। ভবনের পুনর্নির্মাণ বা মেরামত কাজের সময় নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে, যাতে পুনরায় এমন দুঃখজনক ঘটনা না ঘটে।



