রুমিন ফারহানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য ও বিএনপি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক, গতকাল স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে তীব্র বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি দাবি করেন যে তার বিরোধী জোটের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা নিয়মিত স্টেজে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে আইন লঙ্ঘন করছেন, যদিও তিনি নিজে কোনো স্টেজ বা হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করেন না। এই অভিযোগের পর প্রশাসন তাকে ৪০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করে, পূর্বে একই অভিযোগে ১০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপিত হয়েছিল।
স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু বকর সরকার জানান যে রুমিন ফারহানার ওপর আচরণবিধি লঙ্ঘনের ভিত্তিতে অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে এবং আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তিনি উল্লেখ করেন যে রুমিন ফারহানা যদি কোনো অতিরিক্ত অভিযোগ করতে চান, তবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করতে পারেন।
রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে জোটের নেতৃত্বাধীন সংযোজনের ফলে উলমায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তে রুমিন ফারহানা দলীয় মনোনয়ন থেকে বাদ পড়েন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার পর ৩০ ডিসেম্বর রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। বহিষ্কারের পরেও তিনি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যান এবং নিজের স্বতন্ত্র প্রচারণা চালানোর অধিকার দাবি করেন। তার এই পদক্ষেপ জোটের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে আরোপিত জরিমানা তার স্টেজিং ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে, যদিও তিনি নিজে কোনো স্টেজিং করেন না বলে দাবি করেন। জরিমানার পাশাপাশি কোনো অতিরিক্ত শাস্তি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এই ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ভোটারদের পছন্দকে বিভক্ত করতে পারে। জোটের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ও রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রচারণা উভয়ই আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকন্তু, রুমিন ফারহানার অভিযোগ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধের ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ন্যায়বিচার ও আইন প্রয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। উভয় পক্ষই আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রুমিন ফারহানা তার অভিযোগ তুলে ধরেছেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরোপিত জরিমানার বৈধতা যাচাইয়ের দাবি করেছেন। এই বিষয়টি নির্বাচনের আগে আদালতে আলোচনার বিষয় হতে পারে, যা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় দিক থেকে গুরুত্ব পাবে।



