ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা, কোর্টপাড়া এলাকায় আজ বিকেলে স্বাধীন প্রার্থি মুহাম্মদ মুজিবুর হোসেন (বয়স ৫২) ও তার সমর্থকদের ওপর শারীরিক হামলা ঘটেছে। ঘটনাটি নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে ঘটেছে এবং প্রার্থীর নির্বাচনী পদত্যাগের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলা ঘটার সময় প্রার্থি ও তার দলীয় সদস্যরা কোর্টপাড়া বাজারের কাছাকাছি একত্রিত ছিলেন। হঠাৎ করে কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তাদের দিকে এগিয়ে এসে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়। প্রার্থি ও কয়েকজন সমর্থক আহত হন, তবে গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট নেই।
মুহাম্মদ মুজিবুর হোসেন ঘটনাস্থল থেকে সরাসরি স্থানীয় থানা-এ গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে আক্রমণকারীরা তাকে তার প্রার্থিতা ত্যাগ করতে বলেছে এবং হুমকি দিয়েছে। তিনি দাবি করেন যে এই হুমকি তার স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকারকে ক্ষুন্ন করেছে।
হামলার দায়িত্ব নেওয়া ব্যক্তির নাম হিসেবে হোসেনের অভিযোগে বিএনপি ভাঙ্গা উপজেলা ইউনিটের অফিস সেক্রেটারি কুতুবুদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কুতুবুদ্দিনের দায়িত্ব হল স্থানীয় পার্টির সংগঠন ও কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করা। অভিযোগে বলা হয়েছে যে তার অনুসারীরা এই আক্রমণে অংশগ্রহণ করেছে।
কুতুবুদ্দিন এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন যে তিনি বা তার কোনো সহকর্মী এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন যে তার দলীয় সদস্যদের মধ্যে এমন কোনো কর্মকাণ্ডের তথ্য তার কাছে নেই এবং তিনি কোনোভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।
ভাঙ্গা থানা-র অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. আবদুল আলিম জানান যে তারা হোসেনের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী তালিকা তৈরি এবং আক্রমণকারীদের সনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি দিক থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রযোজ্য ধারা অনুযায়ী অপরাধীকে গ্রেফতার করা এবং আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। থানা-র তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফোরেনসিক বিশ্লেষণ চালাবে এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল রেকর্ড সংগ্রহ করবে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্থানীয় নির্বাচন পরিবেশের উত্তেজনা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। স্বাধীন প্রার্থীর ওপর রাজনৈতিক দলের কর্মীদের আক্রমণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের প্রত্যাশা রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে থানা-র তদন্তের ফলাফল ভিত্তিক আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হবে। ঘটনাটির সম্পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।



