ভূমি মন্ত্রণালয় ১৫ জানুয়ারি একটি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে যে বহসান চর দ্বীপের ছয়টি মৌজা চট্টগ্রাম বিভাগের স্যান্ডউইপ উপজেলা অধীনে থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও সঠিক সমন্বয়মূলক তথ্য।
মন্ত্রণালয়ের জরুরি জরিপ শাখা ১৩ জানুয়ারি একটি চিঠি জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়। চিঠিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব ইব্রাহিম মিয়াজি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একটি বিস্তৃত প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ। নভেম্বর ১৯, ২০২২ তারিখে আন্তঃজেলা প্রযুক্তিগত দল বহসান চর পরিদর্শন করে জিপিএস ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের তথ্য সংগ্রহ করে।
প্রাপ্ত ডেটা আধুনিক গুগল স্যাটেলাইট চিত্রের সঙ্গে তুলনা করতে জিও-রেফারেন্সিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। স্যান্ডউইপের ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (সিএস) মানচিত্রের সমন্বয় করে দেখা যায় যে ছয়টি মৌজা ঐতিহাসিক সীমানার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যায়।
বহসান চর নিয়ে বিতর্কের মূল শিকড় ২০১৭ সালে। সেই বছর সরকার একটি গেজেট নোটিফিকেশন জারি করে চরটি হাটিয়ার অধীনে রাখে, ফলে স্যান্ডউইপের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিবাদ ও সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের নির্দেশে নির্বাহী শাখা বিষয়টি সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেয়। এতে দুই জেলা—চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর—প্রতিনিধি ও পেশাদারদের নিয়ে ১৮ সদস্যের একটি প্রযুক্তিগত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত আঞ্চলিক কমিশনার, জোনাল সেতেলমেন্ট অফিসার, উভয় জেলার ডেপুটি কমিশনার এবং স্যান্ডউইপ ও হাটিয়া উপজেলায় থেকে তিনজন করে বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
কমিটি ঐতিহাসিক নথি, ক্যাডাস্ট্রাল (সিএস) ও রিভিশনাল (আরএস) সার্ভের তথ্য বিশ্লেষণ করে বহসান চরকে স্যান্ডউইপের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে। সমীক্ষার ফলাফল দেখায় যে ভূগোলিকভাবে চরটি স্যান্ডউইপের ঐতিহাসিক সীমানার মধ্যে অবস্থিত।
অধিকারে, মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের পর স্যান্ডউইপের স্থানীয় প্রশাসনকে নতুন ভূমি রেকর্ড আপডেট করতে এবং হাটিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে নির্দেশ দেয়।
স্যান্ডউইপের বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে চরটির উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশা প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে হাটিয়া প্রশাসন এখনও কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষত চরটির সম্পদ ও মৎস্যসম্পদ সংক্রান্ত অধিকার।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ও জেলা-উপজেলা সম্পর্কের পুনর্গঠন ঘটাবে। ভবিষ্যতে উভয় জেলা সরকারকে সমন্বয় করে ভূমি রেকর্ডের সঠিকতা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।
পরবর্তী ধাপে মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল দফতরকে সমন্বয় করে ভূমি রেকর্ডের আপডেট, কর সংক্রান্ত পরিবর্তন এবং চরটির উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। এই প্রক্রিয়ায় আদালতের কোনো আপিল বা অতিরিক্ত সমীক্ষা হলে তা অনুসরণ করা হবে।



