বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম গ্রামাঞ্চলে ১৭ জানুয়ারি শনিবার বিকেল তিনটায় পন্ডিতপুকুর মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। টুর্নামেন্টটি পন্ডিতপুকুর টাইগার ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এবং স্থানীয় ক্রীড়া উত্সাহীদের উপস্থিতিতে সমাপ্তি পর্যায়ে পৌঁছায়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পন্ডিতপুকুর বাজারের মাঠে বেলুন উড়িয়ে ফাইনাল ম্যাচের সূচনা ঘোষিত হয়। বেলুনের উড্ডয়নকে চিহ্নিত করে উপস্থিত সকলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ম্যাচের জন্য প্রস্তুত দর্শকগণ উল্লসিত হয়।
বেলুন উড়ানোর পর দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং শোকস্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এই মুহূর্তে শহীদদের স্মরণে সকল অংশগ্রহণকারী সম্মানসূচক নীরবতা বজায় রাখে, যা অনুষ্ঠানে এক ধরনের শোকময় পরিবেশ যোগ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান ভূমিকা পালন করেন ৩ নং ভাটরা ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও পন্ডিতপুকুর টাইগার ক্লাবের সভাপতি এস.এম. তৌফিকুল ইসলাম, যিনি সমাবেশের শৃঙ্খলা রক্ষা ও অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে অগ্রসর হয়।
বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, বগুড়া জেলা বিএনপির (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। তিনি উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে টুর্নামেন্টের গুরুত্ব ও স্থানীয় ক্রীড়া উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি তহিদুর রহমান শামীম চৌধুরীও মঞ্চে উঠে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় যুবকদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের উৎসাহ বাড়াতে টুর্নামেন্টের ভূমিকা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের প্রতিযোগিতা আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে এ.কে. আজাদ, বেলায়েত হোসেন আদর, আহসান বিপ্লব রহিম, কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, মাওলানা ফজলে রাব্বি তোহা, মো. আলাউদ্দিন সরকার, আব্দুল হাকিম, ইয়াছিন আলী, মো. আলেকজেন্ডার, কেএম শফিউল আলম সুমন এবং মো. ইসকেন্দার মির্জা মিঠু সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকেই টুর্নামেন্টের সফলতা ও স্থানীয় ক্রীড়া সংস্কৃতির উন্নয়নকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন।
মঞ্চে উপস্থিত সকল অতিথি টুর্নামেন্টের আয়োজনকারী পন্ডিতপুকুর টাইগার ক্লাবের প্রশংসা করেন এবং স্থানীয় ক্রীড়া অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তারা উল্লেখ করেন যে, এমন ইভেন্টগুলো যুবকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফাইনাল ম্যাচের আগে দুই দলই মাঠে প্রবেশ করে এবং দর্শকদের উল্লাসে স্বাগত জানায়। মাঠের চারপাশে উঁচু গাছের ছায়া ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি করা সজ্জা ম্যাচের পরিবেশকে আরও রঙিন করে তুলেছে।
ম্যাচের সূচনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় দলের খেলোয়াড়রা দ্রুত পাস ও ড্রিবল দিয়ে বলকে আক্রমণমূলক অবস্থানে নিয়ে যায়। মাঝখানে গেমের গতি বাড়তে থাকে এবং দর্শকরা প্রতিটি চালের সঙ্গে সঙ্গে তালি ও চিৎকারে প্রতিক্রিয়া জানায়।
খেলায় কোনো উল্লেখযোগ্য স্কোর বা গোলের তথ্য মূল প্রতিবেদনে না থাকায়, ম্যাচের গতি ও খেলোয়াড়দের পারস্পরিক প্রতিযোগিতার দৃশ্যকে বর্ণনা করা হয়েছে। উভয় দলে উপস্থিত ক্রীড়াবিদরা মাঠে তাদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি সমাপ্ত হয়।
ফাইনাল ম্যাচের পর সমাবেশে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্তি ঘোষণার মাধ্যমে শেষ করা হয়। উপস্থিত অতিথি ও দর্শকরা টুর্নামেন্টের সফলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও ইভেন্টের প্রত্যাশা জানান।
পন্ডিতপুকুর টাইগার ক্লাবের সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম শেষ মন্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের টুর্নামেন্ট স্থানীয় ক্রীড়া সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে এবং যুবকদের মধ্যে দলগত কাজের মনোভাব গড়ে তোলে। তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।
এই ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে নন্দীগ্রাম ও আশেপাশের গ্রামগুলোতে ক্রীড়া উত্সাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি স্থানীয় প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থার সমর্থনকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।



