হবোর নতুন ড্রামা সিরিজ ‘এ নাইট অফ দ্য সেভেন কিংডমস’ শো রানার ইরা পার্কারকে জর্জ আর.আর. মার্টিনের ডাঙ্ক ও এগ সিরিজের বারোটি অপ্রকাশিত গল্পের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। এই শোটি ‘গেম অফ থ্রোনস’ মহাবিশ্বের একটি ভিন্ন দিক উপস্থাপন করে, যেখানে প্রধান চরিত্র হলেন দরিদ্র ভ্রমণকারী হেজ নাইট সের ডাঙ্কন দ্য টল এবং তার দশ বছর বয়সী স্যুইয়ার, যার ডাকনাম ‘এগ’।
সিরিজের কাহিনী ডাঙ্কন ও এগের জৌস্টিং টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের ভাগ্য বদলানোর প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে। শোতে জাদু, ড্রাগন বা বিশাল যুদ্ধের কোনো উপাদান নেই; টোনটি মূল ‘গেম অফ থ্রোনস’ ও ‘হাউস অফ দ্য ড্রাগন’ থেকে হালকা এবং হাস্যরসাত্মক।
মোট ছয়টি এপিসোডের দৈর্ঘ্য প্রায় চল্লিশ মিনিটের কম, ফলে পুরো সিজনটি সংক্ষিপ্ত হলেও দ্রুত অগ্রসর হয়। পার্কার পূর্বে ‘হাউস অফ দ্য ড্রাগন’ প্রথম সিজন এবং ‘বেটার থিংস’ সিরিজে কাজ করেছেন, এবং তিনি মার্টিনের ফ্যান হিসেবে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন যে তিনি ওয়েস্টেরোসের নতুন গল্পের দায়িত্ব পেয়েছেন।
পার্কার শোটি সম্পর্কে বলেছেন, প্রথম এপিসোডে কোনো নাটকীয় ঘটনার বদলে চরিত্রের পরিচয় ও পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এক মুহূর্তে সবকিছু বদলে যাবে না, তবে ধীরে ধীরে গল্পের ধারা গড়ে উঠবে।” এই পদ্ধতি শোকে ধীর গতি হলেও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
‘দ্য হলিভুড নাইট’ উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত এই সিরিজে ডাঙ্কন ও এগের সম্পর্ক ও তাদের যাত্রা মূলত মানবিক দিক থেকে উপস্থাপিত হয়েছে। দর্শকরা যদি মার্টিনের ‘দ্য হেজ নাইট’ উপন্যাস না পড়ে থাকেন, তবে চরিত্র ও কাহিনীর জটিলতা প্রথমে বুঝতে কঠিন হতে পারে, তবে শোটি ধীরে ধীরে সব ধাঁধা সমাধান করে।
শোটি সমালোচকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে, বিশেষ করে এর সরলতা ও চরিত্রময় গুণাবলির জন্য। হলিউড রিপোর্টারের রিভিউতে এটিকে “একটি মনোমুগ্ধকর ধীর আগুনের মতো” বলা হয়েছে, যদিও এই রিভিউটি এখানে পুনরায় উল্লেখ করা হয়নি।
শো রানার পার্কার মার্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যৎ সিজনের জন্য মার্টিনের অপ্রকাশিত ডাঙ্ক ও এগের গল্পগুলোকে সম্ভাব্য উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করছেন। মার্টিনের মতে, এই বারোটি গল্প শোয়ের ভবিষ্যৎ মৌসুমে ব্যবহার করা যেতে পারে, যদিও এখনো কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি।
শোটি হোয়াইট-স্যান্ডসের মতো ভিজ্যুয়াল স্টাইল বজায় রেখেছে, তবে সেটিং ও পোশাকের নকশা মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। শুটিং লোকেশন প্রধানত ইউরোপের ঐতিহাসিক ক্যাসল ও গ্রামাঞ্চলে নেওয়া হয়েছে, যা দর্শকদেরকে প্রাচীন ওয়েস্টেরোসের অনুভূতি দেয়।
প্রযোজনা দল শোয়ের সময়কালকে সংক্ষিপ্ত রাখার জন্য প্রতিটি এপিসোডে মূল গল্পের গতি বজায় রাখে, ফলে দর্শকরা দ্রুতই পরবর্তী ঘটনার প্রত্যাশা করে। শোয়ের সাউন্ডট্র্যাকও ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করে, যা সিরিজের পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে।
শোয়ের প্রধান অভিনেতা পিটার ক্ল্যাফি সের ডাঙ্কন দ্য টলের ভূমিকায় এবং ডেক্সটার সল অ্যানসেল এগের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাদের পারফরম্যান্সকে সমালোচকরা প্রশংসা করেছেন, বিশেষ করে ডাঙ্কনের কঠিন জীবনযাত্রা ও এগের বুদ্ধিমত্তা প্রকাশে।
‘এ নাইট অফ দ্য সেভেন কিংডমস’ শোটি হবোর স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সরাসরি প্রকাশিত হয়েছে এবং দর্শকরা এটি অনলাইনেই দেখতে পারেন। শোটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছ থেকে ভাল প্রতিক্রিয়া পেয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সিজনের জন্য উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
শো রানার পার্কার এবং মার্টিনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও নতুন গল্পের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে। মার্টিনের অপ্রকাশিত ডাঙ্ক ও এগের গল্পগুলো শোয়ের ধারাবাহিকতা ও বিস্তৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শোটি যদি সফল হয়, তবে এটি মার্টিনের অন্যান্য অপ্রকাশিত কাজের জন্যও নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।
শোয়ের সমাপ্তি পর্যন্ত দর্শকরা ডাঙ্কন ও এগের যাত্রা, তাদের বন্ধুত্ব এবং মধ্যযুগীয় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার গল্পে মুগ্ধ হয়েছেন। শোটি যদিও ছোট সিজন, তবে এর গভীরতা ও চরিত্রের বিকাশকে নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সিজন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



