দ্বৈত নাগরিকত্বের ভিত্তিতে প্রার্থী হতে চাওয়া ব্যক্তিদের অনুমোদন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রেডলাইন ঘোষণা করেছে। দলটি রোববারের শেষ দিনকে সীমা হিসেবে নির্ধারণ করে, যদি নির্বাচন কমিশন কোনো ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এমন প্রার্থীদের অনুমোদন করে তবে আইনি লড়াই এবং রাস্তায় প্রতিবাদে নামবে। এই সতর্কতা শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে এনসিপি নির্বাচনী কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মুখে প্রকাশ পায়।
এনসিপি নির্বাচনী কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, কোনো বিদেশি নাগরিককে বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, কিছু প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে গুণ্ডামি চালাচ্ছেন, যেখানে তারা শত শত সমর্থক ও আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন।
দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীর অনুমোদন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে এনসিপি সমালোচনা করে। দলটি দাবি করে, কমিশন বিভিন্ন যুক্তি ও ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এই প্রার্থীদের বৈধতা প্রদান করার চেষ্টা করছে, যা দেশের সংবিধান ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি স্বরূপ।
বিএনপি নেতাদেরও দলটি সমালোচনা করে, কারণ তারা নিজেদেরকে গণতন্ত্রের ধারক ও অগ্রদূত বলে দাবি করলেও, দ্বৈত নাগরিকদের অনুমোদনে ১৮০ ডিগ্রি টার্ন নিয়ে সংবিধানের বিরোধিতা করছে। আসিফ মাহমুদের মতে, কিছু ব্যক্তি বিদেশে সম্পদ সঞ্চয় করে দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিতে চাচ্ছেন, যা তিনি ‘লুটেরা শ্রেণি’ বলে উল্লেখ করেন।
রেডলাইন হিসেবে রোববারকে চিহ্নিত করে এনসিপি জানিয়েছে, যদি নির্বাচন কমিশন কোনোভাবে এই প্রার্থীদের অনুমোদন করে, তবে দলটি আইনি পদক্ষেপ নেবে এবং একই সঙ্গে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশনের একপাক্ষিক অবস্থান দেশের জন্য অশনি সংকেত বহন করে।
দলটি আরও উল্লেখ করে, কিছু প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের পরেও ২০০-৩০০ জন সমর্থক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে গুণ্ডামি চালাচ্ছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ণ করে। এসব কার্যকলাপের ফলে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস হ্রাস পায়।
এনসিপি এই বিষয়টি নিয়ে পূর্বে বহুবার সরকারকে সমালোচনা করেছে, বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব ও অস্বচ্ছতা নিয়ে। দলটি দাবি করে, যদি নির্বাচন কমিশন সংবিধান লঙ্ঘন করে বা কোনো ব্যাখ্যা দিয়ে দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা দেয়, তবে তা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হবে।
দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীর অনুমোদন নিয়ে এনসিপির সতর্কতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি দলটি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে, তবে তা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন আলোচনার দরজা খুলে দেবে।
এনসিপি এখন রেডলাইন শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছে। রেডলাইন অতিক্রম করলে দলটি আইনি এবং জনসাধারণের প্রতিবাদে একসাথে এগিয়ে যাবে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড় আনতে পারে।



