লন্ডন সিটি লায়নেসেস ২০২৩-২৪ এফএ কাপের রাউন্ডে সানডারল্যান্ডকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে অগ্রসর হল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে গ্রেস গেয়োরো কর্নার থেকে ওয়াসা সাঙ্গারের হেডার গোলটি দলকে নেতৃত্ব দিল, ফলে সানডারল্যান্ডের প্রত্যাশিত আপসেটের সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গেল।
এফএ কাপের ইতিহাসে ২০১১ সালে উইমেন্স সুপার লিগ (ডব্লিউএসএল) শুরু হওয়ার পর থেকে তৃতীয় স্তর বা তার নিচের কোনো দল শীর্ষ স্তরের ক্লাবকে বাদ দিতে পারে নি। দ্বিতীয় স্তরের দলগুলোর জন্যও এমন জয় বিরল; ২০২৩ সালে বার্মিংহাম এভারটনকে হারানো এবং ২০২১ সালে লেস্টার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে পরাজিত করা দুইটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সানডারল্যান্ডের লায়নেসেসের বিরুদ্ধে জয় যদি ঘটত, তবে তা মধ্য রাউন্ডের পূর্বাভাসযোগ্যতা ভাঙার একটি বড় নাটক হতো।
লায়নেসেসের গেমপ্লে শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণে ছিল। সাঙ্গারের গোলের পর দলটি অধিকাংশ বলের মালিকানা বজায় রাখে এবং মাঠের বেশিরভাগ অংশে আক্রমণাত্মক চাপ দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সুইডেনের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় কোসোভার আসলানি পরিবর্তন থেকে বেরিয়ে এসে মিডফিল্ডে গতি যোগ করে, যা লায়নেসেসের দখলকে আরও দৃঢ় করে।
সানডারল্যান্ডের গৃহস্থলীর পরিবেশটি ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি ফুটবলের মেজাজে ভরা ছিল। মাঠের এক পাশে গাছের সারি, নিচু মেঘের ছায়া, এবং রেলিংয়ের পাশে কফি হাতে ভক্তদের উপস্থিতি দৃশ্যকে রঙিন করেছিল। গোলপোস্টের পেছনে লায়নেসেসের পতাকা এবং অন্য পাশে ক্যাফের লাইন ভিড়ের সঙ্গে মিলিয়ে একটি অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছিল।
সানডারল্যান্ডের পূর্বের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য ছিল ডিসেম্বরের তৃতীয় রাউন্ডে ডার্বিতে ৫-১ বড় জয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে লায়নেসেসের নতুন প্রধান কোচ এদার মায়েস্ট্রের নেতৃত্বে দলটি শক্তিশালী রক্ষণশীল কৌশল প্রয়োগ করে, যা সানডারল্যান্ডের আক্রমণকে সীমিত রাখতে সাহায্য করে। মায়েস্ট্রের দ্বিতীয় ইংরেজি ম্যাচটি লিভারপুলের বিরুদ্ধে শূন্য-শূন্য ড্রের পর এই গেমে ছিল, ফলে তিনি দলকে আরও আক্রমণাত্মক মনোভাবের দিকে ধাবিত করতে চেয়েছিলেন।
লায়নেসেসের এই জয়টি একই সপ্তাহে ওয়েস্ট হ্যামেরও সফল পারফরম্যান্সের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওয়েস্ট হ্যাম নিউক্যাসলকে ৩-০ পরাজিত করে, যেখানে ভিভিয়ান আসেই, রিকো ইউকি এবং সারাহ ব্রাসেরো-কারেইরা গোলের দায়িত্বে ছিলেন। উভয় লন্ডন ক্লাবের এই জয়গুলো এফএ কাপের মধ্য রাউন্ডে লন্ডনের আধিপত্যকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
সানডারল্যান্ডের জন্য এই পরাজয়টি কঠিন শিখন হতে পারে, তবে তারা ভবিষ্যতে রাউন্ডের বাকি অংশে কীভাবে পুনরুদ্ধার করবে তা দেখতে হবে। লায়নেসেসের পরবর্তী ম্যাচের সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে এফএ কাপের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাদের পারফরম্যান্সের ওপর নজর থাকবে।
সারসংক্ষেপে, লন্ডন সিটি লায়নেসেসের সাঙ্গার হেডার গোল এবং পরবর্তী দখলমূলক খেলা সানডারল্যান্ডকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এফএ কাপের ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ফলাফলটি তৃতীয় স্তরের দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং লায়নেসেসের এই জয় লন্ডনের ফুটবলে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।



