হোয়াইট হাউস ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে গাজা শান্তি বোর্ডের প্রথম সদস্যদের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব অন্তর্ভুক্ত, তবে কোনো ফিলিস্তিনি নাম শীর্ষ স্তরে নেই। এই ঘোষণার পর পরিকল্পনাটি উপনিবেশিক সমাধান হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে।
বোর্ডের কাঠামো দুই ভাগে বিভক্ত: “প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ড” এবং “গাজা নির্বাহী বোর্ড”। প্রথমটি বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক কাজের ওপর কেন্দ্রীভূত, দ্বিতীয়টি মাটিতে কাজের তত্ত্বাবধান করে। ভবিষ্যতে আর কারা যোগ হবে এবং পুরো কাঠামো কতটা জটিল হবে, তা এখনও অজানা।
গাজা নির্বাহী বোর্ডের অধীনে “ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা (NCAG)” কাজ করে, যা প্রযুক্তিগত ও অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি সদস্যদের নিয়ে গঠিত, এবং ড. আলি শাথের নেতৃত্বে। শাথ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন মন্ত্রী, এবং কমিটি নিজেকে অরাজনৈতিক বলে দাবি করে।
প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডে সাতজন সদস্য, যার মধ্যে ছয়জন আমেরিকান। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনার, এবং স্টিভ উইটকফ, যিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিশেষ দূত এবং রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার, পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট আজে বানগা, যিনি ভারতীয় মূলের যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক, একমাত্র অ-আমেরিকান সদস্য হিসেবে তালিকায় রয়েছেন। অন্য একমাত্র অ-আমেরিকান হলেন প্রাক্তন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
টনি ব্লেয়ারের অংশগ্রহণ নিয়ে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতা মুস্তফা বারগৌতি এবং অন্যান্য আরব দেশীয় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা এসেছে। তারা যুক্তি দেন যে ব্লেয়ারের ইরাক যুদ্ধের ভূমিকা এবং ব্রিটেনের উপনিবেশিক ইতিহাস গাজা শান্তি প্রক্রিয়াকে কলোনিয়াল দৃষ্টিকোণ থেকে চালিত করতে পারে। আরব দেশীয় কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ না করেও তাদের উদ্বেগ উল্লেখ করা হয়েছে।
সমালোচকরা আরও উল্লেখ করেন যে শীর্ষ স্তরের কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব না থাকায় পরিকল্পনাটি ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসন ও স্বার্থকে উপেক্ষা করে। বর্তমানে গাজা নির্বাহী বোর্ডে কোনো ফিলিস্তিনি নাম নেই, যদিও NCAG-তে ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদরা অন্তর্ভুক্ত। ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভের সাধারণ সম্পাদক মুস্তফা বারগৌতি বিশেষভাবে এই অনুপস্থিতিকে সমালোচনা করেছেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট নয় যে ভবিষ্যতে আরও কোন ব্যক্তিকে বোর্ডে যুক্ত করা হবে এবং পুরো কাঠামো কতটা জটিল হবে। এই অনিশ্চয়তা পরিকল্পনার কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের লক্ষ্য গাজা অঞ্চলে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করা। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন যে বহুজাতিক ব্যবসায়িক স্বার্থ ও রাজনৈতিক সংযোগ পরিকল্পনার স্বতন্ত্রতা হ্রাস করতে পারে, বিশেষ করে বিনিয়োগের ওপর জোর দেওয়া হলে।
গাজা অঞ্চলে চলমান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে এই বোর্ডের কাজ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা এখনো অনিশ্চিত। NCAG-র নেতৃত্বে ড. আলি শাথের ভূমিকা এবং তার প্রযুক্তিগত দক্ষতা কীভাবে বাস্তব নীতিতে রূপান্তরিত হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ভবিষ্যতে গাজা শান্তি বোর্ডের কার্যক্রমে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যদি ফিলিস্তিনি অংশগ্রহণ না বাড়ে, তবে পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়তে পারে।
সংক্ষেপে, হোয়াইট হাউসের গাজা শান্তি বোর্ডে প্রধানত আমেরিকান ও ব্রিটিশ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি, ফিলিস্তিনি শীর্ষ প্রতিনিধির অনুপস্থিতি এবং টনি ব্লেয়ারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়ছে। পরবর্তী ধাপগুলোতে বোর্ডের গঠন ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং ফিলিস্তিনি স্বার্থের সমন্বয় কীভাবে নিশ্চিত হবে



