বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকীর উপলক্ষে ১৭ জানুয়ারি শনিবার মিরপুরের রূপনগর এলাকায় আলফা‑বাংলা হাইস্কুলের প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে জনসেবার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
এই ক্যাম্পের আয়োজন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) পরিচালনা করে, যা জিয়াউর রহমানের জন্মদিনের স্মরণে বিশেষভাবে গৃহীত একটি উদ্যোগ। ড্যাবের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল রোগীদের বিনা মূল্যে পরামর্শ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রদান করে, পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও বিতরণ করে।
ক্যাম্পে ড্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ও নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া কোষাধ্যক্ষ ডা. মেহেদি হাসান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা. খালেকুজ্জামান দিপু, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুন্সি বজলুল বাছিদ আঞ্জু, সহসভাপতি ডা. রুস্তম আলী মধু, সহ-সভাপতি ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমি এবং যুগ্ম মহাসচিব ডা. সায়িদ মেহবুব উল কাদিরও ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পের কার্যক্রমে মোট ২০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ নিটোর, নার্স, এনআইও, এনআইসিভিডি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আজিমপুর মেটারনিটি সহ বিভিন্ন শাখার ড্যাবের ডাক্তাররা সেবা প্রদান করেন। রোগীদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডি‑ফ্যাব) এর সভাপতি মো. আসাদুল্লাহ মিয়া, আহসানুল আজিম, মাহমুদুর রহমান, আল আমিন, সাকিব, শাহেদ, রানা কাজী, শাওনসহ অন্যান্য সদস্যও ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন। তারা ওষুধের সঠিক বিতরণ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পরামর্শে সহায়তা করেন।
রূপনগর থানা এলাকার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মীও ক্যাম্পে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতি ক্যাম্পকে রাজনৈতিক সমাবেশের রূপে তুলে ধরতে সহায়তা করে, যা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে সংযুক্ত একটি জনসেবা উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।
ক্যাম্পের সময়সীমা পুরো দিনব্যাপী ছিল এবং প্রায় এক হাজারেরও বেশি রোগী চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন। রোগীদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী রোগ, সাধারণ সর্দি-কাশি, গর্ভাবস্থার সংক্রান্ত সমস্যাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করা হয়।
চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি ক্যাম্পে বিনামূল্যে ওষুধের বিতরণও করা হয়। ড্যাবের ফার্মাসিস্ট ও ডি‑ফ্যাবের সদস্যরা রোগীর প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করেন, যা রোগীর আর্থিক বোঝা হ্রাস করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানটি বিএনপির জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং পার্টির সামাজিক দায়িত্বের ইমেজ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী এই ধরনের ইভেন্টকে পার্টি ভিত্তিক জনসেবা হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভবিষ্যতে, এই ধরনের বৃহৎ পরিসরের স্বাস্থ্য ক্যাম্পের ধারাবাহিকতা বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পার্টি নেতারা এই ইভেন্টকে ভিত্তি করে স্বাস্থ্য নীতি ও সামাজিক কল্যাণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন।



