20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভাসানচরের ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত, হাটিয়ার থেকে স্থানান্তর

ভাসানচরের ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত, হাটিয়ার থেকে স্থানান্তর

ভূমি মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সিদ্ধান্ত নেয় যে ভাসানচরের ছয়টি মৌজা নোয়াখালীর হাটিয়া উপজেলির পরিবর্তে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখার প্রতিবেদন, যা চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রেরণ করা হয়।

সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মং চিনু মারমা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর এই দাবিগুলি সরকারীভাবে স্বীকৃত হয়েছে এবং ছয়টি মৌজা এখন সন্দ্বীপের অধীনে থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের জানুয়ারি ১৩ তারিখের নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত কারিগরি টিমের প্রতিবেদন অনুসারে ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নির্দেশিকায় বিভাগীয় কমিশনারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

২০১৬-১৭ সালের দিয়ারা জরিপে ভাসানচরকে নোয়াখালী জেলার হাটিয়া উপজেলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চরটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসতি স্থাপনের স্থান হয়ে ওঠে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করে।

স্থানীয় বাসিন্দারা রাষ্ট্রীয় সার্ভে (RS) ও সিভিল সার্ভে (CS) এর তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করেন যে ভাসানচরের বেশিরভাগ অংশ পূর্বে সন্দ্বীপের ভেঙে যাওয়া অংশের অংশ ছিল। এই দাবির ভিত্তিতে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন দায়ের করা হয়।

বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারকে দায়িত্ব অর্পণ করে। এরপর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. নুরুল্লাহ নুরীকে প্রধান করে ১৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়, যা উভয় পক্ষের যুক্তি শোনে।

কমিটির কাজের মধ্যে রয়েছে উভয় দিকের প্রমাণাদি বিশ্লেষণ, মাটির মানচিত্র পর্যালোচনা এবং 현장 পরিদর্শন। কারিগরি কমিটি সরেজমিনে গিয়ে ভূ-প্রকৃতির বাস্তব অবস্থা যাচাই করে এবং শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয় যে ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ভাসানচরের প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তিত হবে। সন্দ্বীপের উপজেলা পরিষদ এখন এই মৌজাগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ পাবে, যা স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা এবং শরণার্থী ক্যাম্পের পরিচালনায় প্রভাব ফেলবে।

সরকারি দিক থেকে দেখা যায়, এই পরিবর্তনটি সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, স্থানীয় জনগণের দাবি স্বীকার করে তাদের স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অবশিষ্ট বিষয়গুলোতে, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নতুন সীমানা অনুযায়ী রেকর্ড আপডেট করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পরিবর্তন আনতে হবে। এছাড়া, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসতি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন প্রশাসনিক ইউনিটের সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

ভবিষ্যতে, এই প্রশাসনিক পরিবর্তনটি স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। সন্দ্বীপের উপজেলা পরিষদে নতুন মৌজাগুলোর অন্তর্ভুক্তি নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাস, বাজেট বরাদ্দ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

সারসংক্ষেপে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ও গঠিত কমিটির প্রতিবেদন ভাসানচরের ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে, যা স্থানীয় দাবি, শরণার্থী ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments