ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট‑ধোবাউড়া) আসনে স্বাধীন প্রার্থী সালমান ওমরের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের সময় ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সহিংস হামলা ঘটেছে। ঘটনাস্থলে কর্মী নজরুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। এই আক্রমণকে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থানীয় দুই ব্যক্তি, যাদের মধ্যে একজন হলেন যুবদলীয় নেতা আজহারুল ইসলাম এবং অন্যজন হলেন আবদুল্লাহ আল নোমান।
ঘটনাস্থল ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ বাজারে অবস্থিত, যেখানে সালমান ওমরের নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধন চলছিল। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে, আজহারুল ইসলাম ও নোমানসহ একটি দল কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হয়ে কথোপকথনে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। কথোপকথন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নোমান নজরুল ইসলামের দিকে ছুরি চালিয়ে আঘাত করেন।
নজরুল ইসলাম, ৪০ বছর বয়সী, সালমান ওমরের নির্বাচনী কর্মী ছিলেন। আঘাতের পর তাকে সঙ্গে সঙ্গে অফিসের কাছাকাছি অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকগণ প্রাথমিক চিকিৎসা সত্ত্বেও তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আক্রমণের নেতৃত্বদানকারী নোমান, ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দিনের নাতি। মফিজ উদ্দিন বয়সের কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কম সক্রিয় হলেও তার পরিবারে রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রয়েছে। নোমানের ভাই ফরহাদ আল রাজী, উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক এবং ধোবাউড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী। আজহারুল ইসলামও বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত।
হত্যার পর, নজরুলের পরিবার ও সমর্থকরা তার দেহ নিয়ে ধোবাউড়া উপজেলা সদর দফতরে বিক্ষোভের আয়োজন করে। সমাবেশে দলীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহের নাম নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়। সমর্থকরা নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধনের পর লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার কথা উল্লেখ করে, “বকাঝকা” ও “চাকু” ব্যবহার করে সংঘর্ষের বর্ণনা দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আক্রমণটি নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধনের পর লোকজনের বেরিয়ে যাওয়ার সময় সংঘটিত হয়। পুলিশের মতে, আজহারুল ইসলাম ও নোমান ছুরিকাঘাতের সরাসরি দায়ী।
হত্যার পরপরই স্থানীয় তিনজন বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে নোমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত কয়েকজন স্থানীয় নেতা, যাদের নাম পুলিশ জানায়নি। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মামলাটি স্থানীয় থানা থেকে জেলা আদালতে হস্তান্তর করা হবে।
ময়মনসিংহ-১ আসনে মূল বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সালমান ওমর মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার নির্বাচনী অফিসের উদ্বোধন স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই সহিংস ঘটনার দিকে নিয়ে যায়।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে পাওয়া ছুরি, গায়ের রক্তের নমুনা ও সাক্ষীদের বিবৃতি ভিত্তিক তদন্ত চলছে। ফরেনসিক দল দেহের ক্ষত বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে ছুরিকাঘাতের ফলে সরাসরি মৃত্যু ঘটেছে। মামলাটি এখন আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার তারিখ শীঘ্রই জানানো হবে।
এই ঘটনার ফলে ময়মনসিংহের রাজনৈতিক পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়ে। স্থানীয় নাগরিকরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনী অফিসে ছুরিকাঘাতের এই ঘটনা ময়মনসিংহ-১ আসনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার একটি নতুন মাত্রা প্রকাশ করেছে। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্যের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



