কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান হাসনাত আবদুল্লাহ, নির্বাচনের পূর্বে ইস্ত্রি করা পাঞ্জাবি ও লম্বা টুপি পরিধান করে ইরি ক্ষেতে উপস্থিত হওয়াকে ‘হিপোক্রেসি’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি এই মন্তব্যটি শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের শোনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় করেন।
শুনানির সময় বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর অশোভন আচরণ ও কমিশনের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার ওপর হাসনাত তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, একাডেমিক পরিবেশে দু’টি নাগরিকত্ব নিয়ে আইনজীবীরা তর্কের মধ্যে থাকলে হঠাৎ মিন্টু মুসার দিকে গিয়ে ‘ব্লাডি সিভিলিয়ান’ ও ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে গালিগালাজ করেন।
হাসনাতের বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে এবং মিন্টুর সন্তান তাবিথ তাকে কমিশন কক্ষ থেকে বের করে নিতে বাধ্য হন। তিনি এ ঘটনাকে রাজনৈতিক এলিটিজমের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন, যেখানে কেউ কাউকে ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে অপমান করে, তবু একই সময়ে ভোটের জন্য তার কাছ থেকে সমর্থন চায়।
হাসনাতের মতে, এমন আচরণ স্বাভাবিক নয় এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে ক্ষুণ্ন করে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে অর্থ পাচারকারী কিছু এলিট শ্রেণি, যার মধ্যে মিন্টুও অন্তর্ভুক্ত, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করে।
‘রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা ব্যবসা করেন এবং সেফ এক্সিট নেন, তাদের আমরা ২৪‑পরবর্তী বাংলাদেশে দেখতে চাই না’ – এ কথাটি তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন। তিনি যুক্তি দেন, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে এমন এলিটদের প্রভাব সীমিত করা জরুরি।
হাসনাতের মন্তব্যের পরেও, মিন্টু বা তার প্রতিনিধির কাছ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনের পদক্ষেপের ওপরও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন, তবে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। হাসনাতের দাবি অনুযায়ী, কমিশনকে এই ধরনের আচরণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনা না ঘটে।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, ভোটের আগে এমন বিতর্কের উদ্ভব নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে তারা জোর দেন, ভোটারদের মূল বিষয় হল নীতি ও উন্নয়ন, ব্যক্তিগত আচরণ নয়।
হাসনাতের বক্তব্যের ভিত্তিতে, এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠন এখনো নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত। তিনি উল্লেখ করেন, পাঞ্জাবি ও টুপি পরিধান করা কেবল শোভা নয়, বরং ভোটারদের কাছে সত্যিকারের সেবা প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশের মাধ্যম হওয়া উচিত।
বিএনপি নেতা মিন্টুর আচরণ নিয়ে ইতিমধ্যে পার্টির অভ্যন্তরে কিছু আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিন্দা বা শাস্তি ঘোষিত হয়নি। পার্টি নেতারা দাবি করেন, মিন্টু তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমা চেয়েছেন, তবে তা জনমতকে সন্তোষজনকভাবে পরিবর্তন করতে পারেনি।
নির্বাচন কমিশনের শোনানির পরবর্তী ধাপ হিসেবে, উক্ত বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এখনো স্পষ্ট নয়, এই প্রক্রিয়ায় কতটা সময় লাগবে এবং কোন ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের আচরণ ও জনসাধারণের প্রত্যাশার মধ্যে পার্থক্যকে তুলে ধরেছে। ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল, প্রার্থীরা তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষম কিনা, নাকি শুধুমাত্র শোভা-সজ্জা ও রূপকথা দিয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিতর্কের পুনরাবৃত্তি রোধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করা যায়।



