ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা‑সালথা) আসনে বাংলাদেশ কেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলী, যাকে ধলা হুজুর নামেও চেনা যায়, তার গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি সম্বলিত একটি কল রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রেকর্ডটি নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের প্রাক্তন ছাত্রদল সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম (রবি) এবং রিকশা প্রতীকের সমর্থক মাওলানা শোয়াইব ইসলামের কথোপকথন বলে দাবি করা হচ্ছে। রেকর্ডটি শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতের দিকে ভাইরাল হওয়ার পর নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রবি, যিনি পুরাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, শোয়াইবের সঙ্গে কথায় বলেন, “তোর ভোট দরকার হলে হুজুরকে ভোট দে, কিন্তু হুজুরকে আনার দরকার নেই; তুই যদি হুজুরকে আনো, আমার সমস্যা হবে।” এরপর তিনি আরও বলেন, “ধলা হুজুরের বাপও বনগ্রাম মোড়ে আসতে পারবে না, গাড়ি দিবানে জ্বালাইয়া।” এই কথাগুলি রেকর্ডে স্পষ্টভাবে শোনা যায় এবং হুমকি স্বরূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
শোয়াইব, যিনি রিকশা প্রতীকের সমর্থক এবং মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের পুত্র, ধলা হুজুরকে পুরাপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আনার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে রবি, যিনি একই এলাকার উঁচু রাজনৈতিক প্রভাবশালী, হুজুরের উপস্থিতি নিষেধ করেন। রেকর্ডে রবি উল্লেখ করেন, “যদি তোর ভোট দরকার হয়, হুজুরকে ভোট দে, কিন্তু হুজুরকে আনা আমার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করবে।” এই বিবৃতি নির্বাচনী কৌশল ও স্থানীয় ক্ষমতার সংঘাতকে উন্মোচিত করে।
রেকর্ড প্রকাশের পর ফরিদপুর-২ আসনের ভোটার এবং সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারকারীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বহু মন্তব্যে এই ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্যকে নির্বাচনী পরিবেশের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রচারণার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু ব্যবহারকারী রবি ও শোয়াইবের কথোপকথনকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর দিক থেকে সমালোচনা করেছেন।
রবি রেকর্ডে শোয়াইবের কথার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “মাওলানা শোয়াইব ইসলাম আমার এলাকার এক বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে জোরপূর্বক ধলা হুজুরকে নিয়ে কর্মসূচি করতে চেয়েছিল। ওই পরিবারটি এতে বিব্রত হয়ে আমাকে জানায়। আমি শুধু বলেছি, যেখানে বাড়ির মালিকই চাচ্ছে না, সেখানে জোর করে কেন যাবেন।” রবি তার বক্তব্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের ইচ্ছা ও নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে, কেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী আল্লামা শাহ আকরাম আলীর নির্বাচনী মুখপাত্র মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান রেকর্ডের পর মন্তব্য করে বলেন, “আমরা শুরুর থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। আমাদের জনপ্রিয়তা দেখে কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, এবং বিএনপি সমর্থকদের থেকে হুমকি পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা জরুরি।” এই মন্তব্যে কেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান স্পষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই রেকর্ডের প্রকাশ নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। তারা আরও বলেন, নির্বাচনী কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভয়ে চলতে পারে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, রবি এবং শোয়াইবের কথোপকথনকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় ক্ষমতার ব্যবহার ও ভোট সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ পেয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান রক্ষা করে এবং ভবিষ্যতে কোনো হিংসা বা হুমকি না দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচনী কমিশন রেকর্ডের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, উভয় দলের নেতারা ভোটারদের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচনী সময়ে এ ধরনের সংঘাতের পুনরাবৃত্তি রোধে সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।



