ইংল্যান্ডের উইমেন্স ফিফা কাপের চতুর্থ রাউন্ডে আইপসউইচ টাউন নারী দল শেফিল্ড ইউনাইটেডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। দলটি বর্তমানে উইমেন্স সুপার লিগ ২-এ নিচের দিকে অবস্থান করছে এবং এই ম্যাচটি তাদের জন্য চাপমুক্ত একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থাপনা দল মৌসুমের অবশিষ্ট অংশে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আইপসউইচের নারী দল এই সিজনে WSL2-তে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে, পোর্টসমাউথ ও ডারহাম থেকে পাঁচ পয়েন্টের পিছিয়ে। পোর্টসমাউথ একটি ম্যাচ বেশি খেলে এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। লিগে তাদের অবস্থানকে বিবেচনা না করে, দলটি ফিফা কাপের এই ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামবে।
চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচটি আইপসউইচের পূর্বের ফিলিক্সটউয়ে ঘরে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারা পূর্বে তাদের হোম গেমগুলো খেলত। লিগের গ্রাউন্ড মানদণ্ড পূরণ না করার কারণে দলটি সাময়িকভাবে কলচেস্টার গিয়ে খেলতে বাধ্য হয়েছিল। এখন আবার ফিলিক্সটউয়ে ফিরে এসে তারা ঘরের সুবিধা নিতে পারবে।
নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর শোন বার্টের মতে, খেলোয়াড়দের এখন স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “ম্যাচে ভুল করা বা ভালো করা লিগের অবস্থানে প্রভাব ফেলবে না, তাই এটি একটি স্বাগত বিচ্যুতি হতে পারে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি দলকে ঝুঁকি নিতে এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কাঠামোতে সাম্প্রতিক মাসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। সাত বছর ধরে দলকে পরিচালনা করা জো শিহানকে ৬ জানুয়ারি থেকে পদত্যাগের আদেশ দেওয়া হয়। তার পর ডেভিড রাইট interim ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
শোন বার্টকে ১২ জানুয়ারি হার্টস থেকে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। একই সময়ে শিহানকে ১৬ জানুয়ারি প্লেয়ার ডেভেলপমেন্ট হেড এবং প্রো গেম একাডেমি ম্যানেজার হিসেবে পুনর্বিন্যাস করা হয়।
বার্টের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি ছিল। তিনি জোর দেন, “প্রোঅ্যাকটিভ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ; যদি আমরা লিগে টিকে না পারি, তবে তৃতীয় স্তরে নামলেও দ্রুত ফিরে আসার পরিকল্পনা থাকতে হবে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি স্বল্পমেয়াদী প্রতিক্রিয়ার বাইরে গিয়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
দলটি এখন WSL2-তে শীর্ষের দিকে প্রতিযোগিতা করতে চায় এবং যদি কোনো সময় তৃতীয় স্তরে নামতে হয়, তা তাদের লক্ষ্যকে কমিয়ে দেবে না। বার্ট উল্লেখ করেন, “আমরা জানি আমরা কোথায় পৌঁছাতে চাই এবং সেই দিকেই কাজ করছি।” এই আত্মবিশ্বাসী মনোভাব দলকে পুনর্গঠন এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ট্রান্সফার উইন্ডোর জন্য ক্লাবের পরিকল্পনা এখনও গোপন, তবে বার্টের মন্তব্য থেকে বোঝা যায় নতুন খেলোয়াড়দের সংযোজন এবং বিদ্যমান স্কোয়াডের শক্তিবৃদ্ধি লক্ষ্য করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো দলকে লিগে পুনরায় উত্থান ঘটাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেফিল্ড ইউনাইটেডের সঙ্গে ফিফা কাপের এই ম্যাচটি আইপসউইচের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। জয়লাভ করলে দলটি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে শক্তি পাবে। বিপরীতে, হারে গেলে তারা এখনও লিগে বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট সুযোগ পাবে।
আসন্ন সপ্তাহে আইপসউইচের নারী দল তাদের লিগের পরবর্তী ম্যাচে আবার মাঠে নামবে, যেখানে তারা পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য লড়াই করবে। একই সঙ্গে ফিফা কাপের ফলাফল তাদের মনোভাব এবং পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে।
ক্লাবের নতুন ব্যবস্থাপনা দল এবং টেকনিক্যাল স্টাফের সমন্বয়ে আইপসউইচের নারী দল এখন পুনর্গঠন এবং উন্নয়নের পথে অগ্রসর। তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট: WSL2-তে শীর্ষে পৌঁছানো এবং ভবিষ্যতে উচ্চতর স্তরে প্রতিযোগিতা করা। এই দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন পরিকল্পনা দলকে সামনে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



