ঢাকার মগবাজারে জামায়াতে ইসলামী (জি.আই.)‑এর সহকারী সচিব জেনারেল ও প্রচার‑মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানালেন, ইসলামী আন্দোলনের জন্য জি.আই.‑এর দরজা এখনও উন্মুক্ত। তিনি জোর দিয়ে বললেন, “সবার জন্য দরজা খোলা আছে”।
ইসলামী আন্দোলন, যা পূর্বে জি.আই.‑এর নেতৃত্বে ১১টি দলের অংশ ছিল, আসন ভাগাভাগির টানাপোড়েনের পর এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত শুক্রবার তারা সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে, ফলে জোট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
এই বিচ্ছিন্নতার পরেও জি.আই.‑এর কেন্দ্রীয় কমিটি ৪৭টি আসন ইসলামী আন্দোলনের জন্য সংরক্ষণ করেছিল। সেই আসনগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব লিয়াজোঁ কমিটিকে দেওয়া হয়েছে, জুবায়ের জানান। কমিটি সিদ্ধান্ত নিলে শীর্ষ নেতৃত্ব তা অনুমোদন করবে।
একই সময়ে, জি.আই.‑এর নায়েব আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সাংবাদিকদের জানালেন, বাকি ১০টি জোটের দলকে এই ৪৭টি আসন ভাগ করে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে অবশিষ্ট ৩০টি আসনের মধ্যে প্রায় ১৫টি আসন পেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছে। এ বিষয়টি জি.আই.‑এর অভ্যন্তরীণ আলোচনার একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জি.আই.‑এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে দলীয় ইশতেহার চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এই বৈঠকে দলীয় ইশতেহার, নির্বাচনী কৌশল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নীতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছেন দলের আমির শফিকুর রহমান। এতে উপস্থিত ছিলেন নায়েব আমির, সচিব জেনারেল, সহকারী সচিব জেনারেল, নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল ও বিশেষজ্ঞরা। সবাই একত্রে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও কৌশল নির্ধারণে মনোনিবেশ করেছেন।
বৈঠকে ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারের সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রচার সফরের তারিখ, রুট এবং পদ্ধতি নির্ধারণের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এছাড়া, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি পত্র (পলিসি পেপার) প্রস্তুত করার কাজও চলমান। এসব নথি ভবিষ্যৎ সরকারের কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জি.আই.‑এর এই প্রকাশনা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে প্রভাবিত করতে পারে। তবে জি.আই.‑এর দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দেখায় যে ভবিষ্যতে পুনরায় জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে।
ইসলামী আন্দোলনের একক প্রচারাভিযান এবং জি.আই.‑এর আসন বণ্টন পরিকল্পনা উভয়ই দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে। উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তের পরিণতি নির্বাচনের ফলাফলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা আগামী সপ্তাহে আরও স্পষ্ট হবে।
সামগ্রিকভাবে, জি.আই.‑এর কেন্দ্রীয় কমিটির এই সিদ্ধান্ত এবং ইসলামী আন্দোলনের একক নির্বাচনের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন সমন্বয় ও কৌশলগত পরিবর্তনের সূচনা নির্দেশ করে। নির্বাচনের পূর্বে এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টির কেন্দ্রে থাকবে।



