28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইন্দোনেশিয়ায় ১১ আরোহীসহ টার্বোপ্রপ বিমান নিখোঁজ, অনুসন্ধান চলছে

ইন্দোনেশিয়ায় ১১ আরোহীসহ টার্বোপ্রপ বিমান নিখোঁজ, অনুসন্ধান চলছে

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় এয়ার ট্রান্সপোর্টের একটি টার্বোপ্রপ বিমান, শনি­বার সকালেই যোগ্যাকার্তা থেকে সুলাওয়েসি দ্বীপের মাকাসার শহরের দিকে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ১১ জন আরোহী—৩ জন যাত্রী ও ৮ জন ক্রু—এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিমানটি মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীর সংখ্যা তিনজন এবং ক্রু সদস্য আটজন ছিল। উড্ডয়নের সময় কোনো অস্বাভাবিক সংকেত পাওয়া যায়নি, ফলে বিমানটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া একটি অজানা ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

অনুসন্ধান দল হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সমন্বয়ে তৎক্ষণাৎ কাজ শুরু করেছে। অপারেশনস প্রধান আন্দি সুলতান জানান, বর্তমান পর্যায়ে বিমানটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারণে উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং সন্ধান কর্মসূচি রাতের অন্ধকারে অব্যাহত থাকবে।

ইন্দোনেশিয়া, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত, সেখানে ভূখণ্ডের বিচ্ছিন্নতা অতিক্রম করতে বিমান পরিবহন অপরিহার্য। সুলাওয়েসি, সুলাওয়েসি দ্বীপের অন্যতম প্রধান বন্দর শহর, সমুদ্রপথে সংযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে আকাশযাত্রার ওপর নির্ভরশীল।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিমান নিরাপত্তা রেকর্ড দুর্বলতা দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দুর্ঘটনার হার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। এই পরিস্থিতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কালিমানতান প্রদেশ থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়, যেখানে ছয়জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য প্রাণ হারায়। সেই ঘটনার পর থেকে সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে বাস্তবায়ন এখনও পর্যাপ্ত নয় বলে সমালোচনা রয়ে গেছে।

বিমান নিখোঁজ হওয়ার পর ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষত অস্ট্রেলিয়া ও মালয়েশিয়া, অনুসন্ধানে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দু’দেশের সিভিল এভিয়েশন অথরিটি দ্রুত ড্রোন ও রাডার সিস্টেম শেয়ার করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা অনুসন্ধান কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের বিমান দুর্ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংলাপের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা (APEC) ফোরামে বিমান নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ সেশনের আয়োজনের কথা জানিয়েছে, যাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সমন্বয় সাধন করা যায়।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “ইন্দোনেশিয়ার আর্কিপেলাগো গঠন এবং বিস্তৃত ভূখণ্ডের কারণে বিমান পরিবহনই প্রধান সংযোগের সোপান। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি কেবল দেশীয় নয়, পুরো অঞ্চলের বাণিজ্য ও মানবিক সেবার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।” এই মন্তব্যটি বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতা ও সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

অনুসন্ধান দল আগামী কয়েক দিন পর্যন্ত হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে কাজ চালিয়ে যাবে। কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেঁচে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হবে এবং প্রয়োজনীয় রেসকিউ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments