ইলেকশন কমিশন (ইসিসি) আজ ঢাকা‑এর আগারগাঁও সদর দফতরে দুইটি আপিল শুনে কমলা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মনজুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল করে, একই সঙ্গে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী হসনাত আবদুল্লাহকে নামধারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এই সিদ্ধান্তটি ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, বাতিলকৃত মনোনয়নগুলোর বিরুদ্ধে আট দিন ধারাবাহিকভাবে চলা আপিল শোনার আটম দিন নেওয়া হয়।
ইসিসি জানায়, হসনাতের আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মনজুরুলের নামের সঙ্গে যুক্ত একটি ঋণ রয়েছে এবং তিনি সেই ঋণ সংক্রান্ত তথ্য তার নামাবলিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন হসনাতের আবেদন গ্রহণ করে মনজুরুলের প্রার্থীতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
কমলা-৪ের রিটার্নিং অফিসার পূর্বে নামাবলির স্ক্রুটিনির পরে মনজুরুলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিল। তবে হসনাতের আপিলের পর, রিটার্নিং অফিসারকে পুনর্বিবেচনা করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত ইসিসি হসনাতের পক্ষে রায় দেয়।
মনজুরুলও হসনাতের নামধারিতা নিয়ে আপিল দায়ের করে, যেখানে তিনি দাবি করেন যে হসনাতের অফিডেভিটে আয়-ব্যয়ের বিবরণ অনুপস্থিত। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি হসনাতের মনোনয়ন বাতিলের দাবি করেন।
ইসিসি উভয় পক্ষের আপিল পর্যালোচনা করে, হসনাতের আপিলকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে এবং মনজুরুলের আপিল প্রত্যাখ্যান করে। ফলে হসনাতের নামধারিতা নিশ্চিত হয়, আর মনজুরুলের প্রার্থীতা শেষ হয়ে যায়।
কমলা-৪ের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তনটি স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন দিক যোগ করেছে। বিএনপি ও এনসিপি উভয়ই নিজেদের অবস্থান রক্ষার জন্য আইনি পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, যা নির্বাচনী নিয়মের কঠোর প্রয়োগকে নির্দেশ করে।
বিএনপি পক্ষ থেকে মনজুরুলের বাতিলকে রাজনৈতিক চালচলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ইসিসি তার সিদ্ধান্তকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত বলে রক্ষা করেছে। অন্যদিকে এনসিপি হসনাতের পক্ষে রায়কে তার অধিকার রক্ষার সঠিক ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
ইসিসি এই রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে একই ধরণের আপিলের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, বিশেষ করে এই জাতীয় নির্বাচনের আগে।
কমলা-৪ে ভোটের তারিখের কাছাকাছি এ ধরনের পরিবর্তন স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। উভয় দলের সমর্থকরা এখন নতুন প্রার্থীকে সমর্থন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ইসিসি উল্লেখ করেছে যে, বাতিলকৃত মনোনয়নগুলোর পুনর্বিবেচনা ও আপিল শোনার প্রক্রিয়া নির্বাচনী আইনের অধীনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত আপিল দাখিল হলে তা দ্রুত শোনা হবে।
এই রায়ের পর, এনসিপি হসনাতের প্রচারণা দল দ্রুত কাজ শুরু করেছে, যেখানে তিনি কমলা-৪ের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা ও স্থানীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে ভোটারদের কাছে কথা বলবেন।
বিএনপি পক্ষ থেকে এখনো কোনো নতুন প্রার্থী নামের প্রস্তাবনা প্রকাশিত হয়নি, তবে পার্টি নেতৃত্বের কাছ থেকে মনজুরুলের বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য শোনা যাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ইসিসির এই সিদ্ধান্ত কমলা-৪ের নির্বাচনী লড়াইকে নতুন মোড় দিয়েছে এবং উভয় দলের জন্য কৌশলগত পুনর্বিবেচনার দরজা খুলে দিয়েছে। ভোটের দিন পর্যন্ত উভয় প্রার্থীর প্রচারণা কেমনভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



