19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমালদা rally-তে মোদি অনুপ্রবেশবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিলেন

মালদা rally-তে মোদি অনুপ্রবেশবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিলেন

মালদা, পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় জনসভায় ১৭ জানুয়ারি নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল শাসনাধীন রাজ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির শাসন পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে এবং এর মূল কারণকে তিনি অনুপ্রবেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মালদা শহরের বিশাল সমাবেশে উপস্থিত ভিড়ের সামনে মোদি বাংলা ভাষায় সরাসরি কথা বলেন, যেখানে তিনি রাজ্যের নিরাপত্তা ও জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে, বিশেষ করে মালদা ও মুর্শিদাবাদে, সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা ও জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের প্রবণতা বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, যদি বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল গঠন করে, তবে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং ব্যাপক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূল সরকারের বর্তমান নীতি ও কৌশলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, এবং বলছেন যে নতুন শাসন কাঠামোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

মোদি তৃণমূল শাসনের ওপর অভিযোগ তুলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট’ বহু বছর ধরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার কার্ড তৈরি করে ভোটের প্রভাব বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান ও দরিদ্র জনগণের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাজ্যের সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, অন্যান্য সমৃদ্ধ দেশগুলো অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেয়, তবু বাংলায় কেন তাদের স্বাগত জানানো হচ্ছে তা তিনি প্রশ্ন করেন। তার মতে, তৃণমূল শাসনে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে সাধারণ মানুষের জমি ও নারীর সম্মান রক্ষা করা কঠিন।

মোদি মুম্বাইয়ের বৃহৎ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (বিএমসি) নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন প্রজন্মের ভোটার, যাকে ‘জেন জি’ বলা হয়, বর্তমানে বিজেপির উন্নয়ন মডেলের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। মুম্বাইয়ের ভোটাররা যে উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তা তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্যও একই ফলাফল আশা করেন।

বিবেচনা করে তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ তৃণমূলকে পরাজিত করে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনবে। তিনি তৃণমূলের ‘হৃদয়হীন’ শাসনকে কেন্দ্রীয় সাহায্য পৌঁছাতে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা সাধারণ মানুষের উন্নয়নকে থামিয়ে দেয়।

অনুপ্রবেশবিরোধী কঠোর নীতি ঘোষণা করার পাশাপাশি মোদি হিন্দু শরণার্থী সম্প্রদায়ের মানুষদের আশ্বস্ত করেন। তিনি মথুয়া ও অন্যান্য হিন্দু শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও সমর্থন নিশ্চিত করার কথা বলেন, এবং তাদেরকে সরকারের সঙ্গে একাত্ম হতে আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যদি শাসন গঠন করে, তবে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সাদৃশ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি ভোটারদেরকে সচেতনভাবে ভোট দিতে এবং দেশের অগ্রগতির জন্য একসাথে কাজ করতে আহ্বান জানান।

এই বক্তব্যের পর, রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, ভোটের ফলাফল এবং শাসন পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাবে। তবে ভোটের ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, এবং সকল রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের আগে জনমত সংগ্রহে ব্যস্ত।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments