20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের ২৭টি অপারেশনে ৫২ জন বন্দি মুক্ত, ৩৮টি বন্দুক ও...

সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের ২৭টি অপারেশনে ৫২ জন বন্দি মুক্ত, ৩৮টি বন্দুক ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (বিসিজি) গত এক বছরে সুন্দরবনের জঙ্গলে ও পার্শ্ববর্তী জলের পথে ২৭টি অ্যান্টি-রবেরি অপারেশন চালায়। এসব অভিযান থেকে ৩৮টি বন্দুক, দুইটি হ্যান্ড বোম, ৭৪টি দেশীয়ভাবে তৈরি অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন সরঞ্জাম এবং ৪৪৮টি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযানগুলোর ফলস্বরূপ ৪৯ জন চোর গ্যাং সদস্য গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৫২ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি অবস্থায় ছিলেন। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম‑উল‑হাকের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, এই গ্যাংগুলো মূলত মাছ ধরা জাহাজ ও নদীর পথে হিংস্র ডাকাতি করত।

বছরের মধ্যে গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতার ও বন্দি মুক্তির পাশাপাশি, কোস্ট গার্ড বহু মাছ ধরার দলকে অপহরণ থেকে রক্ষা করে তাদের পরিবারে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এ ধরনের পদক্ষেপকে গার্ডের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, বিশেষ করে সুন্দরবনের নদী ও খালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ২ জানুয়ারি ২০২৬-এ ঘটেছে। কানুর খালের কাছে একটি নৌকা ভ্রমণের সময়, দীর্ঘদিনের ডাকাত গ্যাং গলকানন রিসোর্টের মালিক ও দুইজন পর্যটককে বন্দি করে নেয়। এই ঘটনার পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কোস্ট গার্ডকে জানায়। গার্ড তৎক্ষণাৎ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ড্রোন নজরদারি এবং আর্থিক ট্রেসিং সহ একাধিক কৌশল ব্যবহার করে ৪৮ ঘন্টার তীব্র অভিযান চালায়। শেষ পর্যন্ত রিসোর্টের মালিক ও দুইজন পর্যটককে নিরাপদে মুক্তি দেয়া হয়।

অভিযানের পর গ্যাংয়ের কিছু সদস্যকে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে খুলনার দাকপ এলাকায় গ্রেফতার করা হয় এবং দাকপ থানা-ইন-চেঞ্জে হস্তান্তর করা হয়। একই সময়ে, ৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ গ্যাংয়ের নেতা মাসুম মৃধা, যাকে গার্ডের সূত্রে গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, খুলনা জেলার ধানখালি থেকে ধরা পড়ে এবং টেরো খাদা থানা-ইন-চেঞ্জে হস্তান্তর করা হয়।

কোস্ট গার্ডের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়তা করছে। গার্ডের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত গোয়েন্দা কাজ, ড্রোন ব্যবহার এবং আর্থিক তদন্তের মাধ্যমে গ্যাংগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় মৎস্যজীবী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি বাড়ানো হবে।

এইসব তথ্যের ভিত্তিতে, সরকার ও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে গ্যাং সদস্যদের বিচারের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযোগ আনা হবে এবং তাদের অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, বন্দি মুক্তির পর তাদের পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুন্দরবনের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় অর্থনীতির সুরক্ষার জন্য কোস্ট গার্ডের এই ধরনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরী অপারেশন চালিয়ে গ্যাংগুলোর কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা এবং নদী-খালের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments