শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক নির্বাচন সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই একটি গোপন চক্র কাজ শুরু করেছে এবং এই চক্রের লক্ষ্য বাংলাদেশকে নতুন কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে দেওয়া।
ফারুকের মতে, ঐতিহাসিকভাবে বিদেশি ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের পদ্ধতিই প্রথমবারের মতো ষড়যন্ত্রের সূচনা করেছিল। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কাজই এই চক্রান্তগুলোকে জনসমক্ষে আনার প্রধান কারণ।
বৈঠকের প্রধান অতিথি হিসেবে ফারুকের বক্তব্যে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সততা ও সাহসিকতাকে উল্লেখ করে বলেন, এই গুণাবলীর ভিত্তিতে দেশের মধ্যে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি যুক্তি দেন, যদি জনগণ সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপিকে রায় দেয় এবং সরকার গঠনে সহায়তা করে, তবে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।
ফারুক অতিরিক্তভাবে তরিক রহমানের ১৬ বছরের নির্বাসনকালেও বাংলাদেশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরিকের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক শক্তি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং শি. জিয়া, খালেদা জিয়া ও তরিকের আদর্শের মাধ্যমে দেশের অধিকার, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার অঙ্গীকার দৃঢ় হয়েছে।
বক্তা উল্লেখ করেন, শি. জিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে যে কারণ ছিল, তা হল দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার ইচ্ছা। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে কেউ মেনে নিতে পারে না এবং শি. জিয়ার শবযাত্রায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণ তার ন্যায়বিচারপ্রতি আস্থা প্রকাশ করে।
ফারুক জোর দিয়ে বলেন, শি. জিয়ার সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না এবং তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরেছেন। তার নেতৃত্বে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের গর্বের স্থান বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৈঠকের বিষয়বস্তু ছিল “প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শিক্ষা সংস্কার, বেগম খালেদা জিয়ার অবদান, তরিক রহমানের শিক্ষা জাতীয়করণ ভাবনা”। এই আলোচনায় শিক্ষার সংস্কার ও জাতীয়করণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মতামত উপস্থাপিত হয়।
ফারুকের মন্তব্যে তিনি তরিকের রাজনৈতিক নীতি ও শি. জিয়া, খালেদা জিয়ার আদর্শের প্রতি অটল থাকার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই আদর্শের ভিত্তিতে তারা দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় থাকবে।
বক্তা উল্লেখ করেন, আজকের অনুষ্ঠানের আয়োজক শি. জিয়ার উপস্থিতি না থাকলেও তার আদর্শ ও স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। তিনি বলেন, শি. জিয়ার অবদানকে কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না এবং তার নীতিগুলোকে অনুসরণ করা তাদের দায়িত্ব।
ফারুকের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। তিনি ড. ইউনুসের নেতৃত্বে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিএনপি’র নেতার এই বক্তব্যের পর, অন্যান্য অংশগ্রহণকারীও তরিকের অবদান ও শি. জিয়ার আদর্শের প্রতি সম্মান প্রকাশ করেন। তারা একমত যে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের আদর্শকে পুনরায় জীবন্ত করা প্রয়োজন।
বৈঠকের শেষে অংশগ্রহণকারীরা একসাথে শি. জিয়ার স্মরণে এক মুহূর্তের নীরবতা পালন করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষার উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সুরক্ষার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এই আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, নির্বাচনের পূর্বে উত্থাপিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সত্ত্বেও, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দিকে মনোনিবেশ করছে।



