22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিটিকটক বিরোধে ব্রিটিশ মা প্রথম শুনানিতে বেদনাদায়ক অনুভব করেন

টিকটক বিরোধে ব্রিটিশ মা প্রথম শুনানিতে বেদনাদায়ক অনুভব করেন

গ্লোস্টারশায়ার ভিত্তিক ৪৯ বছর বয়সী এলেন রুম, তার ১৪ বছর বয়সী পুত্র জুলিয়ান “জুলস” সুইনি ২০২২ সালে চেলটনহ্যামে বাড়িতে মারা যাওয়ার পর টিকটককে মামলা করেছেন। রুম এবং অন্যান্য পিতামাতারা ডেলাওয়ারের সুপিরিয়র কোর্টে একত্রিত হয়ে এমন একটি মামলার অংশ যেখানে দাবি করা হয় যে তাদের সন্তানরা “ব্ল্যাকআউট চ্যালেঞ্জ” নামে অনলাইন চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার সময় প্রাণ হারিয়েছেন।

মামলাটি সামাজিক মিডিয়া ভিকটিমস ল’ সেন্টার দায়িত্বে দায়ের করা হয়েছে এবং এতে জুলসের পাশাপাশি ১৩ বছর বয়সী আইজ্যাক কেনেভান, ১২ বছর বয়সী আর্চি ব্যাটার্সবি, ১১ বছর বয়সী নোয়া গিবসন এবং ১৩ বছর বয়সী মাইয়া ওয়ালশের মৃত্যুর উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে যে টিকটক ও তার মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের ডিজাইন ও প্রোগ্রামিং নীতি শিশুদের প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে উৎসাহিত করে, ফলে এমন বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া সহজ হয়।

রুমের দল ডেলাওয়ারে এই সপ্তাহে প্রথম শুনানিতে উপস্থিত হয়। শুনানির সময় রুম প্রকাশ করেন যে আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে—মামলাটি বাতিল হবে নাকি অনুসন্ধান পর্যায়ে অগ্রসর হবে। তিনি বলেন, আদালতে বিষয়টি পদ্ধতি ও মশনের উপর ভিত্তি করে, তবে তাদের জন্য এটি সরাসরি তাদের মৃত সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্কিত।

টিকটক একটি আনুষ্ঠানিক মন্তব্যে জানায় যে তারা বিপজ্জনক আচরণকে উত্সাহিত বা প্রচারকারী কোনো বিষয়বস্তু কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে। এই বক্তব্যের পরেও রুমের দল দাবি করে যে প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমিক কাঠামোই মূল সমস্যার কারণ, যা শিশুদের মনোযোগ বাড়াতে এবং ব্যবহার সময় বাড়াতে ডিজাইন করা হয়েছে।

মামলার মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাইটড্যান্সের “ইঞ্জিনিয়ারড অ্যাডিকশন” নীতি, যা শিশুদের টিকটকে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে বাধ্য করে। রুমের মতে, এই নীতি সরাসরি তাদের সন্তানদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে গিয়েছে, কারণ চ্যালেঞ্জটি প্ল্যাটফর্মে জনপ্রিয়তা পেতে বিশেষভাবে প্রচারিত হয়েছিল।

রুম তার আর্থিক ব্যবসা ১৮ বছর ধরে চালিয়ে আসার পর বিক্রি করে জুলস’স ল’ নামে একটি আইনগত উদ্যোগ চালু করেন। এই আইনটি পিতামাতাকে তাদের মৃত সন্তানদের ডেটা আদালতের অনুমতি ছাড়াই পাওয়ার অধিকার প্রদান করার লক্ষ্য রাখে। এছাড়া তিনি সামাজিক মিডিয়ার নিরাপত্তা নীতি সংশোধনের জন্যও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধ করা যায়।

জুলসের মৃত্যুর পর করোনার একটি ইনকোয়েস্টে তার মৃত্যুর কারণকে আত্মহত্যা হিসেবে বাদ দিয়ে একটি বর্ণনামূলক রায় প্রদান করা হয়। রুম বিশ্বাস করেন যে তার পুত্র অনলাইন চ্যালেঞ্জের ভুল ব্যবহারের ফলে মারা গেছেন, যদিও সরকারী রায়ে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার সময় রুম টিকটক ও বাইটড্যান্সের কাছ থেকে ডেটা সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা তিনি বিশ্বাস করেন যে ঘটনার প্রকৃত কারণ উন্মোচন করতে সহায়তা করবে। তিনি সামাজিক মিডিয়ার অস্বচ্ছ নীতি ও ডেটা শেয়ারিং প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই তথ্যের মাধ্যমে ভবিষ্যতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথ খুঁজতে চান।

শুনানির পরে রুমের অনলাইন আপডেটে তিনি উল্লেখ করেন যে আদালতে আইনজীবীরা তাত্ত্বিক পয়েন্ট নিয়ে বিতর্ক করছেন, যা তার জন্য কষ্টকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই প্রক্রিয়া তাদের সন্তানদের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের চেয়ে বেশি দুঃখজনক হয়ে উঠছে।

এই মামলাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব ও শিশু সুরক্ষার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। যদি রুমের দল সফল হয়, তবে টিকটক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মকে তাদের অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জের প্রচার সীমিত করতে বাধ্য করা হতে পারে।

মামলার চূড়ান্ত ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, তবে রুম ও তার সহপিতামাতার প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভবিষ্যতে অনলাইন চ্যালেঞ্জের ঝুঁকি কমাতে এবং শিশুদের নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপের প্রভাব কী হবে, তা সময়ই বলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments