27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাভারত শাসিত কাশ্মীরে মুসলিম অধিকাংশ ভর্তি হওয়ায় মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল

ভারত শাসিত কাশ্মীরে মুসলিম অধিকাংশ ভর্তি হওয়ায় মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল

ভারত শাসিত জুম্মু ও কাশ্মীরের রাজাউরি জেলার শ্রী মা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউটে (SMVDMI) মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে হিন্দু উগ্র গোষ্ঠীর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কলেজের স্বীকৃতি বাতিল করে।

স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্ত ৬ জানুয়ারি ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC) গ্রহণ করে। এই পদক্ষেপের ফলে কলেজটি কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার পরই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না।

SMVDMI-তে নভেম্বর ২০২৩-এ প্রথম ব্যাচের ভর্তি শুরু হয়। মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়, যার মধ্যে ৪২ জন মুসলিম, ৭ জন হিন্দু এবং ১ জন শিখ ছিলেন। কলেজটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হলেও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ন্যাশনাল এলিট টেস্ট (NEET) এর র‍্যাঙ্ক এবং কেন্দ্রীয় মেধা তালিকার ভিত্তিতে হয়।

বহু হিন্দু উগ্র সংগঠন দাবি করে যে, কলেজটি বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের দানী তহবিল দিয়ে প্রতিষ্ঠিত, তাই সেখানে শুধুমাত্র হিন্দু শিক্ষার্থীরই ভর্তি হওয়া উচিত। এই দাবি অনুযায়ী তারা কলেজের বন্ধের দাবি তীব্রভাবে তুলে ধরে।

স্থানীয় বিজেপি নেতারা এই আন্দোলনের তীব্রতা লক্ষ্য করে রাজ্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন, যাতে ভর্তি নীতি পরিবর্তন করে কেবল হিন্দু শিক্ষার্থীরই ভর্তি নিশ্চিত করা যায়। তবে NMC স্বীকৃতি বাতিলের কারণ হিসেবে শিক্ষকমণ্ডলীর ঘাটতি, শয্যা সংখ্যা এবং ল্যাবরেটরি সুবিধার অপর্যাপ্ততা উল্লেখ করে।

শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে। তারা জানান, SMVDMI-তে শিক্ষার পরিবেশ এবং গবেষণার মান অনেক সরকারি কলেজের তুলনায় উন্নত ছিল। তাছাড়া, ভর্তি প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় পরিচয় নয়, একমাত্র মেধাই প্রধান মানদণ্ড ছিল।

ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য সর্বজনীন NEET পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং কেন্দ্রীয় মেধা তালিকা অনুযায়ী কলেজ বরাদ্দ করা হয়। SMVDMI-র প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও এই নিয়ম মেনে ভর্তি হয়েছিলেন।

হিন্দু গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী, ধর্মীয় ভিত্তিতে ভর্তি নীতি পরিবর্তন করা উচিত, তবে শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, NMC যখন কলেজের অনুমোদন দিয়েছিল, তখন অবকাঠামো যথেষ্ট ছিল। ভর্তি তালিকা প্রকাশের পর হঠাৎ করে অবকাঠামোগত ঘাটতির অজুহাত তোলা অস্বাভাবিক বলে তারা মন্তব্য করেন।

ক্লিনিক্যাল সুবিধা, শিক্ষকসংখ্যা এবং ল্যাবরেটরি সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে NMC যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা শিক্ষার্থীদের মতে অযৌক্তিক। তারা বলেন, কলেজে আধুনিক গবেষণাগার এবং পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ সুবিধা ছিল।

এই ঘটনা কাশ্মীরের শিক্ষানীতিতে ধর্মীয় বৈষম্যের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। স্বীকৃতি বাতিলের ফলে প্রথম ব্যাচের ৫০ জন শিক্ষার্থীকে তাদের শিক্ষাগত পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং অন্য কোনো স্বীকৃত মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত হতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তের ওপর কোনো আপিলের তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনুমান করেন, এই ধরনের হঠাৎ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীর ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় সকল প্রয়োজনীয় নথি এবং বিকল্প কলেজের তালিকা প্রস্তুত রাখা। যদি কোনো স্বীকৃতি বাতিলের মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি দেখা দেয়, তবে দ্রুত বিকল্প প্রতিষ্ঠান খোঁজা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।

আপনার মতামত কী? ধর্মীয় সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীর অধিকার রক্ষার জন্য কী ধরনের নীতি প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments