গাজীপুরের কালীগঞ্জে শনিবার দুপুর ১১টার দিকে বড়নগর সড়কের পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় একটি মারামারির ফলে ব্যবসায়ী কালি ঘোষের (বয়স ৫৫) প্রাণ ত্যাগ করে। তিনি স্থানীয় ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’ এর মালিক, এবং দোকানের কর্মীকে রক্ষা করার চেষ্টা করায় হিংসা বাড়ে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ১৭ বছর বয়সী দোকান কর্মী অনন্ত দাশ, যিনি হালকা বিষয় নিয়ে কালি ঘোষের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। তর্ক দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং আশেপাশের লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনন্ত দাশের সঙ্গে তর্কের পর, ২৮ বছর বয়সী মাসুম মিয়া হোটেলে প্রবেশ করে। তার উপস্থিতি এবং পূর্বের তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে তার বাবা মোহাম্মদ স্বপন মিয়া (বয়স ৫৫) ও মা মাজেদা খাতুন (বয়স ৪৫) ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিবারটি ঘটনাস্থলে হস্তক্ষেপের সময় মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
কালি ঘোষ শান্তি রক্ষার উদ্দেশ্যে সামনে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকে মারধর করা হয়। হিংসাকারীরা বেলচা দিয়ে তার মাথায় আঘাত হানে, ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার মৃত্যু স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোক ও ক্রোধের সঞ্চার করে।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের সহায়তায় তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত হলেন মৃত ব্যবসায়ীর স্বামী মোহাম্মদ স্বপন মিয়া, তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন এবং তাদের পুত্র মাসুম মিয়া।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, হিংসার মূল কারণ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের মতে, হিংসা শুরু হয় দোকান কর্মী ও কালি ঘোষের মধ্যে তুচ্ছ কথোপকথন থেকে, যা দ্রুত বাড়িয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হিংসায় রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে পাওয়া শারীরিক প্রমাণ এবং সাক্ষীদের বিবরণ অনুসারে, গ্রেফতারকৃতদের অপরাধমূলক দায়িত্ব স্পষ্ট।
স্থানীয় মানুষদের মতে, কালি ঘোষের মৃত্যু তাদের জন্য বড় শক। তিনি বহু বছর ধরে হোটেল ও মিষ্টি দোকান পরিচালনা করে আসছেন এবং কর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তার মৃত্যু নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে।
আসামির পরিবারও শোক প্রকাশ করেছে এবং ন্যায়বিচার দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, কালি ঘোষের মৃত্যুর পরপরই তারা পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার প্রক্রিয়া দেখতে পেয়েছেন।
আইনি দিক থেকে, পুলিশ ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হিংসা ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওসি জাকির হোসেন জানান, প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।
এই ঘটনার পর গাজীপুরের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন, যাতে এমন হিংসা আর না ঘটে এবং শিকারের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সরকার ও পুলিশ এই ধরনের হিংসা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনা না ঘটাতে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বজায় রাখা হবে।
এই ঘটনার তদন্ত চলাকালে, সংশ্লিষ্ট সকলের আইনি অধিকার রক্ষার পাশাপাশি শিকারের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



