27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষালক্ষ্মীপুরে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের পিঠা উৎসব, ৬২ স্টল ও ২০০ের বেশি স্বাদ

লক্ষ্মীপুরে ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের পিঠা উৎসব, ৬২ স্টল ও ২০০ের বেশি স্বাদ

লক্ষ্মীপুরের বাগবাড়ি ক্যাম্পাসের মাঠে শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন হয়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক একত্রে গ্রামীণ ঐতিহ্য পিঠাপুলির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের পরিকল্পনা একাধিক বছর ধরে চালু রয়েছে; স্কুলের শিক্ষাবর্ষের শুরুতে শিক্ষার্থীদের স্থানীয় খাবারের সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এটি একটি ধারাবাহিক উদ্যোগ। এই বছরও একই উদ্দেশ্যে ৬২টি স্টল সাজানো হয়, যেখানে দুইশো অধিক ভিন্ন ডিজাইন ও স্বাদের পিঠা প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক দলটি শিক্ষকদের নেতৃত্বে গঠন করা হয় এবং তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে স্টল প্রস্তুতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। স্টলগুলোতে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি পিঠা সাজানো হয়েছে, যা দর্শকদের স্বাদগ্রাহ্য আনন্দ দেয়।

স্টলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল দ্বাদশ শ্রেণির ‘ইনকিলাব পিঠাঘর’। তাদের ব্যানারে হ্যাশট্যাগ যুক্ত ‘জাস্টিস ফর হাদি’ স্লোগান দেখা যায়, যা স্থানীয় একটি মামলার ন্যায়বিচার দাবি করে। এই দলটি পিঠা বিক্রির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই বার্তা তুলে ধরেছে।

সকালবেলায় লক্ষ্মীপুর পৌর প্রশাসক জসিম উদ্দিন রিবন কেটে পিঠা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে স্বাগত জানিয়ে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনের পর প্রশাসক বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং প্রতিটি স্টলের সৃষ্টিশীলতা ও স্বাদে প্রশংসা প্রকাশ করেন। তিনি বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগকে উত্সাহিত করে, আরও নতুন ধারণা নিয়ে আসার পরামর্শ দেন।

এই সময় ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম এবং উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে, শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের অভিজ্ঞতা শিক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

স্টলগুলোতে ‘হাসি ফ্রি’, ‘হিডার ঘর’, ‘নবাবী পিঠা’, ‘কুয়াশা ভেজা পিঠাঘর’, ‘আদিবাংলা পিঠা স্টেশন’ ইত্যাদি থিমযুক্ত পিঠা সাজানো হয়। এছাড়া ‘হৃদয়হরণ’, ‘ভাপা পুলি’, ‘বেগুন পুলি’, ‘গোলাপ পিঠা’, ‘ডিম সুন্দরী’, ‘সেমাই পিঠা’, ‘কুকিজ পিঠা’, ‘নকসী পিঠা’, ‘ডালের পিঠা’, ‘পাটিসাপটা’, ‘কলিজাপিঠা’ সহ আরও নানা স্বাদের পিঠা উপস্থাপিত হয়।

প্রায় দুইশো ধরনের পিঠা ও পসরা একত্রে সাজিয়ে, শিক্ষার্থীরা গ্রামীণ খাবারের বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা স্থানীয় কৃষি ও খাদ্য সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে লক্ষ্য করা যায়, এমন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, দলগত কাজ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়ক। পিঠা তৈরির প্রক্রিয়ায় তারা প্রাকৃতিক উপাদান, পরিমাপ এবং সময় ব্যবস্থাপনা শিখে, যা পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পাঠকগণ যদি আপনারা আপনার বিদ্যালয় বা কমিউনিটিতে অনুরূপ কোনো ঐতিহ্যবাহী খাবার উৎসবের পরিকল্পনা করেন, তবে প্রথমে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে তাজা উপাদান সংগ্রহ করুন, এবং শিক্ষার্থীদেরকে পরিকল্পনা, ডিজাইন ও বিক্রয় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করুন। আপনার মতামত কী? আপনার বিদ্যালয়ে কোন ঐতিহ্যবাহী খাবারকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করা যেতে পারে?

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments